ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার বলেছেন, একটি সমাজ যদি পরিশ্রম ও সততার চেয়ে শুধু ফলাফলকে বেশি মূল্য দেয়, তাহলে মেধার বিকাশের বদলে শর্টকাটে সফল হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই তরুণদের জন্য এমন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যেখানে কঠোর পরিশ্রম ও সততা যথাযথ স্বীকৃতি পাবে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শচীন এসব কথা বলেন! তার এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে কথিত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।
পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
নিজের পোস্টে শচীন স্মরণ করেন তাঁর বাবার শেখানো মূল্যবোধের কথা। তিনি জানান, তাঁর বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন এবং বহু শিক্ষার্থীর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে তিনি শিখেছিলেন, ব্যর্থ হওয়া লজ্জার নয়, কিন্তু প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। তাই জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই শর্টকাটের পথ বেছে নেওয়া উচিত নয়।
শচীনের মতে, শিক্ষার্থীরা যখন কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে, তখন সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসন—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সততা ও পরিশ্রমই হবে সাফল্যের প্রধান ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, সমাজ যদি প্রচেষ্টার চেয়ে শুধু ফলাফলকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে মেধাবীরা নিরুৎসাহিত হবে এবং শর্টকাটে সফল হওয়ার মানসিকতা বাড়বে। অথচ তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ এবং তাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাই জাতির অগ্রগতির শক্তি।
পোস্টের শেষ অংশে শচীন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবার সম্মিলিত উদ্যোগে এমন সমাধান বের করা সম্ভব, যা আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তাদের স্বপ্নকে নিরাপদ রাখবে। তিনি তাঁর বার্তার সমাপ্তি টানেন ‘জয় হিন্দ’ লিখে।

