দেশের ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার উৎপাদন শিল্প প্রথমবারের মতো একটি স্বীকৃত জাতীয় শিল্প সংগঠনের অধীনে আসছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ার (বিএমএটিএস) এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পকে আরও সংগঠিত ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা গত ২১ জুলাই সংগঠনটিকে লাইসেন্স নম্বর ০৯/২০২৬ প্রদান করে। এই স্বীকৃতির ফলে ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সম্প্রসারণের কারণে ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ারের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, শিল্পায়ন এবং দ্রুত নগরায়ণ এই খাতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, কাঁচামাল সংগ্রহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি ক্রয়নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরার মতো কোনো স্বীকৃত সংগঠন ছিল না। নতুন সংগঠনটি সেই শূন্যতা পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিএমএটিএস শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সরকারের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি নীতিগত সহায়তা আদায়, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিল্পের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও সংগঠনটি কাজ করবে বলে প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে অনুমোদনের সঙ্গে কয়েকটি শর্তও দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংগঠনটিকে ৬০ দিনের মধ্যে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ সভা আয়োজন এবং ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠন করতে হবে।
গত এক দশকে দেশের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, একটি শক্তিশালী জাতীয় সংগঠন গড়ে ওঠায় নীতিনির্ধারণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, বিএমএটিএসের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি কেবল একটি নতুন সংগঠনের যাত্রা নয়। এটি দেশের ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার শিল্পকে আরও সুসংগঠিত, আধুনিক এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

