জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো কাঁচা অবস্থায় রয়ে গেছে। এর ফলে জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ—এই দুই জেলার দুই উপজেলার প্রায় পঁচিশটি গ্রামের পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ নিয়মিত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সাতপোয়া ইউনিয়নের কুমারিয়াবাড়ী বাজার থেকে শুরু হয়ে চর সরিষাবাড়ী মধ্যপাড়া হয়ে ঝালুপাড়া সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার। বর্ষা মৌসুম এলেই সড়কটি কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, এই সময় সড়কে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক এক পরিদর্শনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পর সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে থাকে। পথচারীদের বাধ্য হয়ে কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়, আর গাড়ি চলাচলের সুযোগই থাকে না।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার প্রায় পনেরোটি এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দশটি গ্রামের মানুষ যাতায়াতের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। স্কুল-কলেজ, হাটবাজার কিংবা উপজেলা-জেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র সরাসরি মাধ্যম এই পথ।
উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো বেশিরভাগই সরিষাবাড়ী উপজেলা সদরে অবস্থিত হওয়ায় বর্ষায় শিক্ষার্থীদের কাদাপানি মাড়িয়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়, যা তাদের জন্য প্রতিদিনের এক বাড়তি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাজীপুর উপজেলার সালগ্রাম এলাকার এক বাসিন্দা জানান, গত পাঁচ দশক ধরে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও কোনো সরকারই সড়কটি পাকা করার বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বর্ষাকালে তাদের ভোগান্তির মাত্রা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চর সরিষাবাড়ী গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় এই সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম, অথচ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি অপরিবর্তিত অবস্থায়, অর্থাৎ কাঁচা রয়ে গেছে।
কাজীপুরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, তিনি প্রতিদিন সরিষাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন এবং বর্ষাকালে এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে তীব্র দুর্ভোগে পড়েন। দ্রুত সড়কটি পাকা করার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একজন স্থানীয় বেসরকারি সংস্থাকর্মী বলেন, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা শহরে যেতে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের এই সড়কের ওপরই ভরসা করতে হয়, কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে তাদের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
সাতপোয়া ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য জানান, সড়কটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা বারবার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে প্রতিবারই শুধু আশ্বাস মিলেছে, বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ পঁচিশ গ্রামের প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টাকুরিয়া গ্রামের একজন কৃষক জানান, বর্ষা মৌসুমে চালকেরা এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে রাজি হন না, ফলে অনেক কৃষক উৎপাদিত ফসল কাছের বাজারে নিতে সমস্যায় পড়েন। কখনো কখনো প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের বাজার পর্যন্ত কাঁধে করে ফসল বহন করতে হয় বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি তাদের জানা আছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটি পাকাকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন পাওয়া গেলেই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ পাঁচ দশকের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে, যাতে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হয়।

