রাজধানীর উত্তরায় র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা কথিত ‘আয়নাঘরে’ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। পরে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১ আগস্ট) র্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গুম ও খুনের ঘটনায় এখনো প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ইলিয়াস আলী ও সাজেদুল ইসলাম সুমন অন্যতম।
তিনি বলেন, তারা যে ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন, সেখানে ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমান। তার দেওয়া বর্ণনার ভিত্তিতে ধারণা করা কক্ষটিও তারা পরিদর্শন করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিরা বর্তমানে কোথায় বা কী অবস্থায় আছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সাক্ষ্য, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, র্যাব-১-এর এই আয়নাঘরের একটি কক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে ভারতে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ওই বন্দিশালায় মোট ২৯টি কক্ষ রয়েছে। কী উদ্দেশ্যে এসব কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট আসামিদেরই ব্যাখ্যা করতে হবে।
এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীসহ প্রসিকিউশন টিম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদীসহ সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া গুম কমিশনের সদস্য নুর খান লিটন এবং গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে থাকা এই গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করা হয়।
এর আগে গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ র্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির কথিত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই দিন এসব স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন চিফ প্রসিকিউটর।

