বাংলাদেশ সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠককে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তার মতে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় কোনো বিষয়ে আলোচনা হলে তা সরকারের বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হওয়া উচিত, অন্য কোনো দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধির সঙ্গে নয়।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে তার দল উদ্বিগ্ন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর আগে অবসর নেওয়া একজন ‘দলীয় ব্যক্তি’কে নির্বাচন কমিশনে পদায়ন করা হয়েছে। তার দাবি, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক পদক্ষেপে সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, “আবার যদি একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়েই জাতির মধ্যে প্রশ্ন উঠবে। এ ধরনের কোনো নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা জনগণও মেনে নেবে না, আমরাও মেনে নেব না।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো বিদেশি প্রতিনিধি বাংলাদেশ সরকারের অবগতির ভিত্তিতে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে সেটি ভিন্ন বিষয়। তবে অন্যথায় এমন বৈঠক প্রত্যাশিত নয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তারা চাইলে ভারতে বসেই আলোচনা করতে পারেন। এখানে যদি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়ে থাকে, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু যদি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি সরকারের সঙ্গে কিংবা বিরোধী দলের সঙ্গে হওয়া উচিত। কোনো তৃতীয় দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে এ ধরনের আলোচনা আমাদের কাম্য নয়।”
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে সরকার ও দলের প্রধান। তাই সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি দলের ভোটারদের নন, দেশের সব মানুষের প্রধানমন্ত্রী। যারা অন্য দলকে ভোট দিয়েছেন কিংবা ভোটই দেননি, তাদেরও তিনি প্রধানমন্ত্রী। তাই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে তাকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, স্পিকার নিজেও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বড় সংকটের আশঙ্কার কথা বলেছেন। তাই দেশের পরিস্থিতির অবনতি রোধে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে সবাই গণভোটের পক্ষে থাকলেও পরে অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। তার দাবি, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর গণভোটের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “জনগণের রায়কে সম্মান না করলে তার পরিণতি ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে। বাংলাদেশেও তার উদাহরণ রয়েছে, বিশ্বেও রয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত বাস্তবায়ন হলে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং তা জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে।”

