চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের আটটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এলসি জটিলতা, কাঁচামালের সংকট, ব্যাংক হিসাব জব্দসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী এলাকায় অবস্থিত এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, এস আলম স্টিল, এস আলম ব্যাগ এবং চেমন ইস্পাত কারখানাসহ এর একাধিক ইউনিট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগেও এসব প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে জনবল কমানো হয়েছিল। তবে এবার প্রায় সব কারখানার কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের কাছে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পৌঁছে দেওয়ার পর কার্যত এসব কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তা প্রকৌশলী হাসমত আলী বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকেই কোম্পানির বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান নানা সংকটে পড়েছিল। কাঁচামালের অভাব, এলসি খুলতে না পারা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি জানান, বন্ধ ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মী কর্মরত ছিলেন। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাংকেও বড় ধরনের জনবল সংকোচন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ এলাকার বাসিন্দা।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, একযোগে এতগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা এবং বিপুলসংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে।

