শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে টাঙানো একটি বিলবোর্ড থেকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার সকালে বিলবোর্ডটি অপরিবর্তিত রেখে সেখান থেকে আপত্তিকর ছবিগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের সংগঠন ‘নভো কালচার’-এর উদ্যোগে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে বিলবোর্ডটি টাঙানো হয়েছিল।
বিলবোর্ডে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবি ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেটি অপসারণের দাবি তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, “আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পর রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি এতে রাজি হননি।”
তিনি আরও বলেন, “পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিলবোর্ডে থাকা আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে।”
বিলবোর্ডে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছবি ছিল।
এ ছাড়া বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবিও ওই বিলবোর্ডে দেখা যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবিও সেখানে যুক্ত ছিল।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ছবিও বিলবোর্ডে যুক্ত করা হয়েছিল।
পরে বিলবোর্ডটি পরিবর্তন করে সেখানে শুধু সুখরঞ্জন বালী, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবি রাখা হয়। এর আগে বিলবোর্ডে থাকা অন্যদের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বিলবোর্ডটির অন্যান্য অংশে শাপলা চত্বর, জুলাই আন্দোলন, লগি-বৈঠা তাণ্ডব, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, কোটা আন্দোলন ও আয়নাঘরসহ আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের ছবি ব্যবহারের ঘটনায় রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে কয়েকটি ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থী বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবি জানান। দাবি মেনে না নেওয়ায় বিকালে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলার পর প্রক্টর বিলবোর্ড থেকে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি মুছে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

