গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক এই পদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সচিবালয়ের কাছে সংসদ সদস্যদের তালিকা চেয়েছে। এই তালিকা পাওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং এরপর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
সোমবার ৩ আগস্ট ২০২৬ রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংসদ সচিবালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যদের তালিকা হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ এবং তফসিল ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা করবে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা অংশ নেন না। এই নির্বাচনের ভোটাধিকার কেবল জাতীয় সংসদের সদস্যদের হাতে থাকে। ফলে সংসদ সদস্যদের সঠিক ও হালনাগাদ তালিকা নির্বাচন কমিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই তালিকার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং পরবর্তী সব আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে অনেকেই একটি নিয়মতান্ত্রিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। কারণ রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তাই ভোটের তারিখ ঘোষণার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে ধাপে ধাপে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের মতো সরাসরি জনসম্পৃক্ত না হলেও এর সাংবিধানিক গুরুত্ব অনেক বেশি। রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সাংবিধানিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য। ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি প্রশাসনিক পদক্ষেপই ভবিষ্যৎ নির্বাচন আয়োজনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব। তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটির সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এখন পর্যন্ত সামগ্রিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হলেও কোন বিষয়গুলো কীভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং কোথায় কী ধরনের যাচাই-বাছাই করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়নি। সব ধরনের অসংগতি এড়িয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন সংক্রান্ত পুরো বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংসদ সদস্যদের তালিকা সংগ্রহের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করার পথে এগোচ্ছে। তালিকা হাতে এলেই নির্বাচনের তফসিল, ভোটের সময়সূচি এবং পরবর্তী সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সামনে আসবে। ফলে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে এখন দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী ঘোষণার দিকে।

