সম্পত্তি অন্যের নামে দান করে দেওয়ার পরও দাতা নিজে যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনি অধিকার নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন—এমন বিধান রেখে সংশ্লিষ্ট আইনের একটি সংশোধনী খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রচলিত সম্পত্তি হস্তান্তর–সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, কেউ কাউকে সম্পত্তি দান করলে সেই সম্পত্তির মালিকানার পাশাপাশি ভোগদখলের অধিকারও সঙ্গে সঙ্গে গ্রহীতার কাছে চলে যায়। তবে নতুন সংশোধনীতে এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে—মালিকানা হস্তান্তরিত হলেও দাতা চাইলে তাঁর জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি নিজে ভোগ ও ব্যবহার করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।
একই বৈঠকে গুম প্রতিরোধ–সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ আইনের খসড়ারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই আইন গুমের ঘটনা প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরি করবে।
প্রস্তাবিত এই আইনে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারির সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলেও বিচার কার্যক্রম চালানো, ডিজিটাল মাধ্যমে সংগৃহীত প্রমাণকে আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্যপ্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধানও রাখা হয়েছে।
আইনে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য তদন্তের অগ্রগতি জানার অধিকার, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে জানার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের জন্য সরকারি আইনি সহায়তা, চিকিৎসা সেবা, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং একটি পৃথক ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে, আর তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া একই বৈঠকে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে এতে ওষুধ সরবরাহ বা মূল্যব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত পুরোনো অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং তার ভিত্তিতে চলমান সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাই আগের মতো বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

