বাংলাদেশ সরকার ও একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন সংস্থার যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের এগারোটি নির্মাণ প্যাকেজে নতুন করে ভেরিয়েশন অর্ডার অনুমোদন পাওয়ায় প্রকল্পের মোট ব্যয় বাড়ছে প্রায় দুই হাজার চারশ আটাত্তর কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই বাড়তি ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজে অতিরিক্ত নির্মাণকাজ যুক্ত হয়েছে, নকশায়ও এসেছে সংশোধন, পাশাপাশি বাস্তব প্রয়োজন ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কারণেই মূলত ভেরিয়েশন অর্ডারের এই প্রস্তাবগুলো তোলা হয়েছিল। অনুমোদনের ফলে অধিকাংশ প্যাকেজের চুক্তিমূল্য মূল চুক্তির তুলনায় পঁয়ত্রিশ থেকে প্রায় ঊনপঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
অনুমোদিত প্যাকেজগুলোর মধ্যে একটি প্যাকেজে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রথম ভেরিয়েশন অর্ডারে পাঁচশ চুরানব্বই কোটি টাকার বেশি মূল চুক্তির বিপরীতে একশ নয় কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে, অর্থাৎ চুক্তিমূল্য বেড়েছে আঠারো দশমিক তিন চার শতাংশ।
আরেকটি প্যাকেজে একটি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ভেরিয়েশন অর্ডারে ছয়শ ঊনপঞ্চাশ কোটি টাকার মূল চুক্তির বিপরীতে দুইশ একানব্বই কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে, যা মূল চুক্তির তুলনায় চুয়াল্লিশ দশমিক নয় দুই শতাংশ বেশি। একইভাবে অন্য একটি প্যাকেজে তিনশ ছিয়াশি কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে, যা আটচল্লিশ দশমিক সাত আট শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
আরও কয়েকটি প্যাকেজে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় ভেরিয়েশন অর্ডার অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে ব্যয় বৃদ্ধির হার আটচল্লিশ থেকে ঊনপঞ্চাশ শতাংশের কাছাকাছি। এর মধ্যে একটি প্যাকেজে দুইশ সাতষট্টি কোটি টাকার বেশি, আরেকটিতে তিনশ সাতচল্লিশ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। একটি বড় প্যাকেজে তৃতীয় ভেরিয়েশন অর্ডারের মাধ্যমে সংশোধিত চুক্তিমূল্য গিয়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার একশ কোটি টাকার বেশি, যা মূল চুক্তির তুলনায় চুয়াল্লিশ দশমিক নয় ছয় শতাংশ বেশি।
একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি প্যাকেজে দ্বিতীয় ভেরিয়েশন অর্ডারে দুইশ ছাপ্পান্ন কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে বৃদ্ধির হার আটচল্লিশ দশমিক আট চার শতাংশ। পাশাপাশি আরেকটি প্যাকেজে তিরানব্বই কোটি টাকার বেশি দ্বিতীয় ভেরিয়েশনসহ সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে সাতশ কুড়ি কোটি টাকার বেশি, যা মূল চুক্তির তুলনায় আটচল্লিশ দশমিক আট চার শতাংশ বেশি।
আরেকটি প্যাকেজে একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রথম ভেরিয়েশন অর্ডার অনুমোদনের ফলে চুক্তিমূল্য পঁয়তাল্লিশ দশমিক তিন সাত শতাংশ বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার তিয়াত্তর কোটি টাকার বেশি। এছাড়া দুটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রথম ভেরিয়েশন অর্ডারে যথাক্রমে ছিয়াশি কোটি ও ঊনষাট কোটি টাকার কাছাকাছি অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে বৃদ্ধির হার যথাক্রমে চৌত্রিশ দশমিক সাত শতাংশ ও চল্লিশ দশমিক চার চার শতাংশ।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, প্রকল্পের প্রায় প্রতিটি নির্মাণ প্যাকেজেই মূল চুক্তির তুলনায় চল্লিশ শতাংশের কাছাকাছি বা তার বেশি হারে ব্যয় বৃদ্ধি অনুমোদিত হয়েছে। নির্মাণকাজের পরিধি বৃদ্ধি, নকশা সংশোধন ও বাস্তব প্রয়োজনের কথা বলা হলেও এত বড় অঙ্কের সামগ্রিক ব্যয়বৃদ্ধি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

