বরিশালের উজিরপুর পৌর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি একটি বাঁশের সাঁকোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নিয়ে ফেসবুকে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর বিএনপির সভাপতি ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করেন, আর সেই দৃশ্যের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভার একটি এলাকায় একটি খালের ওপর সাঁকোটি বসানো হয়েছে। খালের একপাশে ইট বিছানো একটি সড়ক থাকলেও তা এখন ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে, আর উঁচু জোয়ারের সময় সেটি পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে যায়। এতে ওই এলাকার জেলে সম্প্রদায়সহ সাধারণ বাসিন্দাদের যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। এই সমস্যার সমাধানে এলাকাবাসী নিজেরাই চাঁদা তুলে বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে প্রায় পঞ্চাশ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সাঁকো তৈরি করেন।
সাঁকো নির্মাণ শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজন করা হয় একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। সেখানে স্থানীয় নারী-পুরুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থক। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে এক বাউলশিল্পী সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়েই তাৎক্ষণিকভাবে রচিত একটি গান পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত মানুষের মধ্যে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা কাঁচি দিয়ে সাঁকোর সামনে বাঁধা লাল ফিতা কাটছেন—ঠিক যেভাবে বড় বড় অবকাঠামো উদ্বোধনের সময় করা হয়। তাঁর এক সমর্থকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেই মূলত ভিডিওটি প্রথম ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।
এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের ঢল। কেউ কেউ এই আয়োজনকে বড় বড় সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে তুলনা করে মজা করেন, আবার কেউ কেউ পাকা সড়কের ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণকে ফ্লাইওভারের সঙ্গে তুলনা করেন। অনেকে আবার একটি সাধারণ বাঁশের সাঁকো উদ্বোধনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কাটা ও কাঁচি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও রসিকতা করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওই বিএনপি নেতা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে তৈরি সাঁকোটি উদ্বোধন করতে পেরে তিনি আনন্দিত, এবং এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার কথা ভেবেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
পৌর বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মন্তব্য করেন, স্থানীয় মানুষের সুবিধার জন্য সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক একটি কাজ, তবে একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে এমন আয়োজনের ধরন নিয়ে আরও সতর্ক ও রুচিশীল হওয়া উচিত ছিল বলে তাঁরা মনে করেন।
এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, বর্ষার মৌসুমে জোয়ারের পানি সড়কে উঠে গেলে ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়, বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় ও খালপাড়ের বাসিন্দাদের ভোগান্তি হয় সবচেয়ে বেশি। এই বাস্তব সমস্যা সমাধানের তাগিদ থেকেই স্থানীয়রা নিজেদের অর্থে সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন বলে তিনি জানান।

