আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, তা ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কারের বিষয় এবং ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির নির্বাচনী অবস্থানও নির্ধারণ করা হয়।
দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সর্বসম্মতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ না করে সরাসরি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হওয়ার পথেই এগোচ্ছে জামায়াত।
তবে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের পক্ষ থেকে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটি ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিরোধী দলের প্রার্থী নির্ধারণ করতে চায়। এ লক্ষ্যে আগামীকাল ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেই বৈঠকেই সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের মতো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় না। ফলে এই নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে জোটগত সমঝোতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জামায়াতের ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যাচ্ছে, দলটি এই নির্বাচনকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়ের একটি ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে।
বিশেষ করে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একজন অভিন্ন প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হলে তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। একাধিক প্রার্থী থাকলে বিরোধী শিবিরের ভোট বা সমর্থন ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিপরীতে সমঝোতার ভিত্তিতে একজন প্রার্থী সামনে এলে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক ঐক্যের চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
তবে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ১১ দলীয় ঐক্যের ভেতরে বিভিন্ন দলের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত কাকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করবে, সেটি নির্ভর করবে জোটের আলোচনার ওপর। ফলে আগামীকালের শীর্ষ বৈঠকই এখন রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়নি। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নেতারা আলোচনা করেন। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের বিষয় এবং ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে দলটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়েও নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন দলের অবস্থানও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ১১ দলীয় ঐক্য কীভাবে প্রার্থী নির্বাচন করে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল সেই সিদ্ধান্তকে কীভাবে গ্রহণ করে, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
এদিকে বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এখন সবার নজর আগামীকালের ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকের দিকে। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে সমঝোতা হয় কি না, নাকি আরও আলোচনার প্রয়োজন পড়ে—সেটিই আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

