বর্ষার জলে ভেসে বেড়ানো নৌকা, আর সেই নৌকাবোঝাই সবুজ পেয়ারার পসরা—ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারার বাজার এবার মুগ্ধ করল খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত রাষ্ট্রদূতকেই। রোববার সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘুরে দেখেন এই অনন্য কৃষিভিত্তিক জনপদ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূত তাঁর স্ত্রীসহ সকালের দিকে ঝালকাঠির ভীমরুলী এলাকায় পৌঁছান এবং সেখানকার ভাসমান পেয়ারার বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন পেয়ারাবাগান ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় কয়েকজন পেয়ারাচাষি ও বাগানমালিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এ সময় পেয়ারা চাষের পদ্ধতি, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বাজারজাতকরণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ভীমরুলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং যুগ যুগ ধরে টিকে থাকা এই ভাসমান বাজার ব্যবস্থা তাঁকে সত্যিকার অর্থেই মুগ্ধ করেছে। বাজারের কর্মচাঞ্চল্য, কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম এবং উৎপাদিত পেয়ারার মান দেখেও তিনি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়েছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উষ্ণ ও ক্রান্তীয় অঞ্চলেও সীমিত আকারে পেয়ারা চাষ হয়ে থাকে—বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্যে। তবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে পেয়ারা রপ্তানির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে নিজের দেশের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন রাষ্ট্রদূত।
উল্লেখ্য, ভীমরুলীর এই ভাসমান পেয়ারার বাজার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান কৃষিভিত্তিক পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে বহু বছর ধরে পরিচিত। বর্ষা মৌসুম এলেই খাল-বিল আর জলপথ ঘিরে নৌকায় পেয়ারা বেচাকেনার এই দৃশ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয় হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাগানমালিকদের ভাষ্যে, রাষ্ট্রদূতের এই সরেজমিন পরিদর্শন পেয়ারাচাষিদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁদের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্নকেও নতুন করে উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি কূটনীতিকদের এ ধরনের সরাসরি পরিদর্শন স্থানীয় কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক প্রচার ও সম্ভাব্য রপ্তানি বাজার সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকৃত রপ্তানি সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে হলে মানসম্পন্ন উৎপাদন, সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে বলেও মত দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।


