রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সংস্থাটির আর্থিক সক্ষমতা, ঋণের বোঝা, পরিচালন ব্যয়, জনবল ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতার সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে—এ প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।
একসঙ্গে ২৪টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তাই বিমানের ভেতরে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনি এ খাতের বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং ১০টি এয়ারবাস। নতুন উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে বহরে যুক্ত হলেও এগুলোর বিপরীতে অর্থ পরিশোধ, ঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ এবং পরিচালন ব্যয় বিমানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
বিমান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারের সময়ে বিদেশি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিমানকে বড় বড় ক্রয় সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বিমানকে সত্যিকার অর্থে লাভজনক করতে হলে প্রথমে সংস্থাটির আয়-ব্যয়ের কাঠামো শক্তিশালী করা, দুর্নীতি কমানো, ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণ, বন্ধ রুট চালু এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু নতুন উড়োজাহাজ কিনলেই একটি বিমান সংস্থা লাভজনক হয়ে ওঠে না।
বর্তমান সরকার অবশ্য বলছে, বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জানিয়েছেন, বিমানকে আধুনিক মিশ্র বহরে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। সংস্থাটিকে আরও উন্নত ও লাভজনক করতে সরকার কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানে দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। উন্নয়নের লক্ষ্যেই বোয়িংয়ের ১৪টি এবং এয়ারবাসের ১০টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। নতুন ১০টি এয়ারবাস এবং ১৪টি বোয়িং যুক্ত হলে বহরের আকার দাঁড়াবে ২৯টিতে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আরও বড়। ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে নিঃসন্দেহে বিমানের সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু বড় বহর পরিচালনার জন্য যে বিপুল বিনিয়োগ দরকার, তার প্রস্তুতি কতটা হয়েছে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বিমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন উড়োজাহাজ কেনার ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এখনো তৈরি হয়নি। অর্থায়নের ধরন কী হবে, ঋণের সুদের হার কত হবে, রক্ষণাবেক্ষণে কত অর্থ ব্যয় হবে কিংবা নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কীভাবে প্রস্তুত করা হবে—এসব বিষয়েও এখনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই।
বিমানের জন্য এই প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উড়োজাহাজ কেনার খরচ শুধু ক্রয়মূল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার পর সেটির রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, ইঞ্জিনের সহায়তা, পাইলট ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ, কেবিন ক্রু নিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। ফলে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ও বাড়ে।
এ কারণে বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, বিমানের বহর সম্প্রসারণের আগে সংস্থাটির আয় বাড়ানোর একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রয়োজন। কারণ বিমানের বর্তমান আর্থিক অবস্থার সঙ্গে একসঙ্গে এত বড় বহর যুক্ত হলে প্রত্যাশিত লাভের পরিবর্তে ঋণের চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
উড়োজাহাজ কেনার এই প্রক্রিয়া অবশ্য নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। এ নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরও হয়েছিল। অন্যদিকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রির বিষয়ে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসও তৎপর ছিলেন। সরকারের পতনের কারণে তখন চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বোয়িং কেনার বিষয়ে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার ১৪টি বোয়িং কেনার বিষয়টি লিখিতভাবে চূড়ান্ত করেছে। এ চুক্তির সময় ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধও করতে হয়েছে। এর সঙ্গে এখন নতুন করে এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনা যুক্ত হয়েছে।
বিমান বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সাতটি এবং আন্তর্জাতিক ২২টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইতালি, কানাডা ও জাপান রুটে নতুন করে ফ্লাইট চালু হয়েছে। নিউইয়র্কসহ আরও কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দুবাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও চেন্নাইসহ বিভিন্ন রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ কেনার পেছনে এসব সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকেও যুক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
তবে নতুন রুট চালু করলেই যে তা লাভজনক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো রুট চালুর আগে সেখানে যাত্রী চাহিদা, প্রতিযোগিতা, জ্বালানি ব্যয়, বিমানবন্দর ফি, উড়োজাহাজের ব্যবহার এবং সম্ভাব্য আয়—সবকিছু বিশ্লেষণ করা জরুরি। ভুল বাজার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রুট বাড়ানো হলে নতুন উড়োজাহাজও বিমানের আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
বিমান সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, উড়োজাহাজ কেনার বিতর্কের শুরু ২০২৩ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকারের সময়ে বিদেশিদের খুশি করতে বিমানের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, বিমানের আগে থেকেই ঋণ রয়েছে এবং দুর্নীতির সমস্যাও পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে ২৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনা হলে সংস্থাটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
নতুন উড়োজাহাজ এলে শুধু অর্থের প্রয়োজন হবে না, দক্ষ জনবলেরও প্রয়োজন হবে। নতুন ধরনের উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য পাইলটদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদেরও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে হবে। কেবিন ক্রুসহ অন্যান্য কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। এসব প্রশিক্ষণ ও জনবল তৈরির ব্যয়ও কম নয়।
বিমানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য যেখানে আয়-ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা এবং লোকসান কমানো, সেখানে বিমানের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। একদিকে প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা অর্থ বা তহবিল কমছে, অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ছে। শীর্ষ পর্যায়ের কিছু পদের বেতন এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার ঘটনাও ঘটেছে বলে সূত্রের দাবি।
এর সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিমানের ব্যয় আরও বাড়িয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ কেনার অর্থের পাশাপাশি জ্বালানি, কর্মীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিমানের সাবেক এক কর্মকর্তা মনে করেন, এত বড় রাষ্ট্রীয় ক্রয়চুক্তিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে শুধু ক্রয়মূল্য বিবেচনা করলেই হয় না। দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ, ইঞ্জিন সহায়তা এবং অর্থায়নের ব্যয়ও হিসাব করতে হয়।
তার মতে, বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ একসঙ্গে যুক্ত হলে এটি বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের ইতিহাসে বড় বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ হবে। এতে বিমান নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সুযোগ পেতে পারে। তবে একই সঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হবে।
এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উড়োজাহাজ বিক্রির বাজার শুধু ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বড় রাষ্ট্রীয় ক্রয়চুক্তির সঙ্গে অনেক সময় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশকে শুধু কোন কোম্পানির উড়োজাহাজ ভালো বা সস্তা, তা দেখলেই হবে না; দীর্ঘমেয়াদে কোন সিদ্ধান্ত দেশের জন্য সবচেয়ে লাভজনক হবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।
বোয়িংয়ের প্রস্তাবিত প্যাকেজে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮। এ প্যাকেজের মূল্য ৩৭০ কোটি টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য সরকারের নির্ধারিত বাজেট এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এ কারণেই এভিয়েশন বিশ্লেষক এটিএম নজরুল ইসলাম সতর্ক করেছেন, নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পাইলট, কেবিন ক্রু, প্রকৌশলী এবং রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম নিশ্চিত করা না গেলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তার মতে, সময়মতো ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বিমানের আয়ও বাড়াতে হবে। পরিকল্পনায় সামান্য ভুল হলেও তার প্রভাব বড় হতে পারে।
আরেক এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলমও ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে এগোনোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, বিমানের লাভজনক হওয়ার জন্য আগে একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার। বিমানের ওপর আগে থেকেই ঋণের চাপ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনা হলে আর্থিক চাপ বাড়বে—এটি প্রায় নিশ্চিত। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বা হস্তান্তরের সময়সীমার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এখানে মূল প্রশ্নটি তাই উড়োজাহাজ কেনা উচিত কি না, সেটি নয়। বরং প্রশ্ন হলো—কতটি উড়োজাহাজ প্রয়োজন, কখন প্রয়োজন, কোন রুটে এগুলো ব্যবহার করা হবে এবং এগুলোর খরচ কীভাবে বহন করা হবে। যদি এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই পরিষ্কার থাকে, তাহলে বহর সম্প্রসারণ বিমানের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যথায় নতুন উড়োজাহাজই ভবিষ্যতে সংস্থাটির আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিমানকে সত্যিকার অর্থে লাভজনক করতে হলে শুধু বহর বড় করলেই হবে না। যেসব আন্তর্জাতিক রুট বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো পুনরায় চালুর আগে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করতে হবে। যেসব রুটে নিয়মিত লোকসান হচ্ছে, সেগুলো নিয়েও কঠোর পর্যালোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্নীতি বন্ধ, রাজনৈতিক প্রভাব কমানো, পেশাদার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা এবং ঋণের বোঝা কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
বিমানের আয় বাড়ানোর জন্য কার্গো পরিবহন, ট্রানজিট যাত্রী, আঞ্চলিক সংযোগ এবং নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে নতুন উড়োজাহাজগুলোর কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হতে পারে। কিন্তু সে জন্য বিমানবন্দর অবকাঠামো, সংযোগ ব্যবস্থা, সেবার মান এবং সময়ানুবর্তিতাও উন্নত করতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরের পর দাম ও অন্যান্য শর্তসহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই আলোচনা চলছে এবং আগস্ট মাসেই চুক্তি হওয়ার আশা রয়েছে। বিমানকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সামনে এখন বড় সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকিও রয়েছে। ২৪টি নতুন উড়োজাহাজ সংস্থাটিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা দিতে পারে। কিন্তু একই সিদ্ধান্ত যদি পর্যাপ্ত আর্থিক পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, লাভজনক রুট, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা ছাড়া বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে বহর আধুনিক হওয়ার পরও বিমান আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
তাই এখন বিমানের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় শুধু নতুন উড়োজাহাজ কেনা নয়; বরং সেই উড়োজাহাজগুলোকে লাভজনকভাবে পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করা। বিদেশি নির্মাতাদের সন্তুষ্ট করার চেয়ে দেশের যাত্রী, করদাতা এবং বিমানের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তবেই এই বড় বিনিয়োগ অর্থবহ হবে। বিমানকে সত্যিকার অর্থে প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে বহর বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার মানও বাড়াতে হবে। তাহলেই নতুন উড়োজাহাজ বোঝা না হয়ে বিমানের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।

