বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ওই দিন জাতীয় সংসদ ভবনে বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আর একক প্রার্থী থাকলে ভোটের প্রয়োজন হবে না।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শুরু হয়েছে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া । সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। ফলে ২০ আগস্টের নির্বাচন মূলত সংসদীয় ভোটের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে।
প্রার্থী নিয়ে বাড়ছে আলোচনা
নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন বিএনপির মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে রোববার বিএনপি নির্বাচন কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও আলোচনায় এসেছে।
তবে বিএনপির বাইরে থেকেও প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী নাকি গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় একাধিক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কি না, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় প্রশ্ন।
কার হাতে যাচ্ছে বঙ্গভবন?
সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে। তবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেয় এবং অন্য দলগুলো শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী দেয়—তার ওপরই ২০ আগস্টের ভোটের চরিত্র নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গভবনের রাজনৈতিক গুরুত্ব কম নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তিনি কোন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অবস্থান গ্রহণ করবেন—সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
এখন অপেক্ষা শুধু বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের। ২০ আগস্ট কি হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন, নাকি দেখা যাবে সংসদে সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

