মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বড় অংশ প্রায় এক দশক ধরে এমন এক জীবনে আটকে আছে, যেখানে বেঁচে থাকা সম্ভব হলেও স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা কঠিন। খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি মানবিক সহায়তা তাদের জীবন রক্ষা করেছে, কিন্তু দীর্ঘ নয় বছর পর প্রশ্ন উঠছে—শুধু বেঁচে থাকাই কি যথেষ্ট? একজন মানুষ যদি পড়াশোনা করতে না পারে, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ না পায়, নিজের পেশা বেছে নিতে না পারে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে মানবিক সহায়তার মধ্যেও তার জীবন অনিশ্চয়তার বৃত্তেই ঘুরতে থাকে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির সঙ্গে যুক্ত বিশ্লেষক মোহাম্মদ রিয়াস রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, তাতে এই বাস্তবতাই স্পষ্ট হয়েছে। শরণার্থী শিবিরে থাকা কিশোর-কিশোরীদের অনেকেই শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক কিংবা ক্রীড়াবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তাদের অভিযোগ, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মতো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তারা কখনোই যথেষ্ট পায়নি।
শিবিরে থাকা অনেক মায়ের দুশ্চিন্তাও এখন শুধু পরিবারের পরবর্তী খাবার নিয়ে নয়। তারা ভাবছেন, তাদের মেয়েদের সামনে আদৌ কোনো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ থাকবে কি না। অনেক তরুণও বছরের পর বছর সাহায্যনির্ভর জীবন কাটাতে চায় না। তারা শিক্ষা নিতে চায়, কাজ করতে চায়, আয় করতে চায় এবং নিজেদের পরিবারের দায়িত্ব নিতে চায়। কিন্তু আশ্রয়শিবিরের সীমাবদ্ধ বাস্তবতা তাদের সেই সুযোগ খুব কমই দেয়।
ফলে রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসার বিষয় নয়। এটি ক্রমেই একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা নিশ্চিত করা, কিশোর ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন এবং দীর্ঘ সংকট মোকাবিলায় পরিবার ও সমাজের সক্ষমতা বাড়ানো এখন বিলাসিতা নয়। এগুলো ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগ।
তবে মানবিক সহায়তারও একটি সীমা আছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা কিংবা দাতা দেশ যত অর্থই দিক, সেটি কখনো রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প হতে পারে না। রোহিঙ্গাদের সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বীকৃতির প্রশ্নে নিহিত। সেই সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া বাংলাদেশে বছরের পর বছর শরণার্থী শিবির পরিচালনা করে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর তাই নতুন করে দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। লক্ষ্য হতে হবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসইভাবে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিশ্চিত করা দরকার, এই দীর্ঘ সংকটের পুরো চাপ যেন বাংলাদেশকে একা বহন করতে না হয়।
বিশ্বের সামনে মূলত দুটি পথ রয়েছে। একটি হলো বছর বছর তহবিল সংগ্রহ করে সংকটটিকে কোনোরকমে সামলে রাখা। অন্যটি হলো রোহিঙ্গাদের কেবল সাহায্যপ্রার্থী জনগোষ্ঠী হিসেবে না দেখে সম্ভাবনাময় মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা এবং তাদের অধিকারভিত্তিক ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করা। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত শুধু এ হিসাব করবে না যে একটি প্রজন্মকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল কি না; বরং এটাও দেখবে, তাদের সামনে বেঁচে থাকার মতো একটি অর্থবহ ভবিষ্যৎ তৈরি করা হয়েছিল কি না।
নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়াই সংকটের কেন্দ্র
রোহিঙ্গা সংকট বুঝতে হলে মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের দিকে ফিরে তাকাতে হয়। এই আইনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব থেকে কার্যত বঞ্চিত করা হয়। ফলে নিজ ভূমিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করেও তারা আইনি স্বীকৃতি, রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এই রাষ্ট্রহীনতা কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সমস্যা নয়। নাগরিকত্ব মানুষের পরিচয়, অধিকার এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি। যখন কোনো জনগোষ্ঠীকে আইনের চোখে পূর্ণ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না, তখন শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সম্পত্তির অধিকার, চলাচল, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশ—সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
জার্মান দার্শনিক ফিখটের রাষ্ট্রচিন্তার আলোকে বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝা যায়। তাঁর চিন্তায় রাষ্ট্র শুধু আইন প্রয়োগকারী কিংবা শাস্তি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি গড়ে ওঠে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করবে—এই নৈতিক দায়িত্বই রাষ্ট্রের বৈধতার একটি ভিত্তি।
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো রাষ্ট্র যখন একটি জনগোষ্ঠীকে আইনগত পরিচয় থেকে বঞ্চিত করে, তখন শুধু সেই জনগোষ্ঠীর অধিকারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; রাষ্ট্র নিজেও নৈতিক বৈধতার সংকটে পড়ে। কারণ নাগরিকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বদলে রাষ্ট্র তখন বৈষম্য ও অস্বীকৃতির যন্ত্রে পরিণত হয়।
রোহিঙ্গাদের অবস্থান এই বিপর্যয়ের একটি বাস্তব উদাহরণ। তারা নিজ ভূমিতে থেকেও আইনের পূর্ণ সুরক্ষা পায়নি, রাজনৈতিক সমাজের স্বীকৃত সদস্য হতে পারেনি এবং পরবর্তীতে সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এই কারণে রোহিঙ্গা সংকট একই সঙ্গে মানবিক, রাজনৈতিক, আইনি এবং নৈতিক সংকট।
‘পরিকল্পিত রাষ্ট্রহীনতা’ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ানের ৩৩তম আঞ্চলিক ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গাদের অবস্থাকে ‘পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রহীন’ করে রাখার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েনি; বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল পরিষ্কার—এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা, তাই এর সমাধানও রাজনৈতিক হতে হবে। বাংলাদেশ আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা নেয় এবং একটি টেকসই সমাধানের জন্য সম্মিলিত চাপ তৈরি করে।
বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরে এ সংকটের সবচেয়ে বড় মানবিক ও সামাজিক বোঝা দেশটিকেই বহন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ এই সংকট সৃষ্টি করেনি। তারপরও মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক মানুষের আশ্রয়, নিরাপত্তা, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশের ওপর এসে পড়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১.৩ মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের বড় অংশ ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে কক্সবাজার অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল।
প্রায় নয় বছর ধরে বিপুল এই জনগোষ্ঠীর অবস্থান কেবল মানবিক বা অর্থনৈতিক চাপই তৈরি করছে না; নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আনছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের কারণে বাংলাদেশ মাদক পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র প্রবাহসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ বাস্তবতায় রোহিঙ্গা সংকটকে আর শুধু বাংলাদেশের শরণার্থী ব্যবস্থাপনার সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মানব পাচার এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সম্পর্ক রয়েছে। সংকট যত দীর্ঘ হবে, এসব ঝুঁকি তত বাড়তে পারে।
রাখাইনের পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে বড় বাধা
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠানোর আলোচনা বহু বছর ধরে চলছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—তারা ফিরবে কোথায় এবং কোন নিরাপত্তার নিশ্চয়তায়?
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি সাংবাদিকতা ও উন্মুক্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের ২৭ মে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান ও মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাখাইনের ১১৫টি গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র যুদ্ধ চলছে। আরাকান আর্মি ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ।
স্যাটেলাইটের কম ও উচ্চ মানের চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বিভিন্ন গ্রামের বর্তমান অবস্থা, অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া, অবকাঠামো ধ্বংস এবং সামরিক প্রতিরক্ষা অবস্থানের চিহ্ন শনাক্ত করেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, ২০১৭ সালের অভিযানে ধ্বংস হওয়া কিছু রোহিঙ্গা গ্রাম পরবর্তী সময়ে পুনর্গঠিত হলেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আবারও ধ্বংস হয়েছে।
কিছু এলাকায় ধ্বংস হওয়া গ্রামকে পরবর্তীতে সামরিক ঘাঁটি বা অবস্থান হিসেবে ব্যবহার করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। সংঘাতের দুই পক্ষই কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন স্থান ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বোঝা যায়, রাখাইনের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নাগরিক জীবন ফেরানোর মতো স্থিতিশীল নয়।
বাংলাদেশের শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য এসব খবর উদ্বেগ আরও বাড়ায়। তারা যদি জানতে পারে যে তাদের গ্রাম ধ্বংস হয়েছে, বসতভিটা নেই অথবা সেখানে আবার সংঘাত চলছে, তাহলে শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়ে তাদের স্বেচ্ছায় ফেরানো কঠিন হবে।
সফল প্রত্যাবাসনের জন্য কেবল মিয়ানমারের সম্মতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাস্তব নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, ভূমির অধিকার, চলাচলের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতে আবার নিপীড়িত না হওয়ার বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা।
প্রত্যাবাসনে জাতীয় কৌশলের প্রয়োজন
দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট জাতীয় প্রত্যাবাসন কৌশল প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। মিয়ানমার ২০২৫ সালের এপ্রিলে জানিয়েছিল, ১৮০,০০০ রোহিঙ্গাকে ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষক এ কে এম আহসানউল্লাহর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৮০০,০০০ রোহিঙ্গার নাম মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছিল। এর বাইরে আরও ৭০,০০০ জনের তথ্য পর্যালোচনার মধ্যে ছিল এবং প্রায় ৫৫০,০০০ জনের যাচাই অসম্পূর্ণ ছিল।
তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কাউকে প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত ঘোষণা করা আর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। যাদের ফেরার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব, জমি, স্বাধীন চলাচল কিংবা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।
এই জায়গাতেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। একজন রোহিঙ্গাকে শুধু সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যদি তিনি ফিরে গিয়ে আবার নাগরিকত্বহীন হন, জমি ফিরে না পান, স্বাধীনভাবে চলাচল করতে না পারেন বা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বাস করতে বাধ্য হন, তাহলে সেই প্রত্যাবাসন স্থায়ী হবে না।
বরং ভুলভাবে পরিচালিত প্রত্যাবাসন নতুন করে বাস্তুচ্যুতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাংলাদেশের কৌশলে সংখ্যা নয়, প্রত্যাবাসনের গুণগত দিককে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ফিরে যাওয়া ব্যক্তি কী অধিকার পাবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে জীবিকা অর্জন করবেন এবং কে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের দিকে নজর
রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত গুরুতর অপরাধের বিচারিক প্রশ্নও সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গাম্বিয়ার করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার গুরুতর অভিযোগ বিবেচনা করছে।
এই মামলার চূড়ান্ত রায় রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক আইনি মূল্যায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। গণহত্যার অভিযোগে কোনো জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করার উদ্দেশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গণহত্যা সনদের ২(ক) অনুচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধু অতীতে কী ঘটেছে তার আইনি ব্যাখ্যা দেবে না; ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের অধিকার, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের ক্ষেত্রেও তা প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যাবাসনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আলোচনায় এমন একটি রায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
৩০৫,০০০ রোহিঙ্গা ফেরানোর আলোচনায় নতুন সম্ভাবনা
এদিকে ২৯ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের একটি বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৩০ জুলাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ার দৈনিক দ্য স্টারকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, আনোয়ার ইব্রাহিম ২৯ জুলাই বলেছেন, মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে ৩০০,০০০ এবং মালয়েশিয়া থেকে ৫,০০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে।
সব মিলিয়ে সংখ্যাটি ৩০৫,০০০। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির থাকার মধ্যে এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তখনো এটিকে নিশ্চিত চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
৩০ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ এখনো মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।
বাংলাদেশের বক্তব্যের সারকথা ছিল—এমন উদ্যোগ বাস্তবে হলে সেটি অবশ্যই ইতিবাচক খবর হবে, কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
এখানেই কূটনৈতিক সতর্কতার প্রয়োজন। প্রত্যাবাসন নিয়ে আগেও বহু আলোচনা, তালিকা, যাচাই ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যকর প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। তাই নতুন কোনো সংখ্যা সামনে এলেই সেটিকে চূড়ান্ত অগ্রগতি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
৩০০,০০০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার সম্ভাব্য সম্মতির খবর গুরুত্বপূর্ণ হলেও কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। তারা কোথায় ফিরে যাবে? তাদের নাগরিকত্বের মর্যাদা কী হবে? নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারবে কি? বাড়িঘর ও জমির অধিকার ফেরত পাবে কি? তাদের নিরাপত্তা কারা নিশ্চিত করবে? আবার সংঘাত শুরু হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া বড় সংখ্যার প্রত্যাবাসন ঘোষণাও স্থায়ী সমাধানে রূপ নাও নিতে পারে।
শুধু প্রত্যাবাসন নয়, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রয়োজন
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার যে চারটি শব্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা হলো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন। এই চারটি শর্তের প্রতিটিরই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অর্থ হলো, ফিরে যাওয়ার পর রোহিঙ্গারা যেন নতুন করে সহিংসতা, গ্রেপ্তার, নিপীড়ন বা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে না পড়ে। স্বেচ্ছামূলক অর্থ, কাউকে চাপ প্রয়োগ করে ফেরত পাঠানো যাবে না। মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অর্থ হলো নাগরিক হিসেবে মানবিক সম্মান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। আর টেকসই প্রত্যাবাসনের অর্থ, তারা যেন কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর আবার পালিয়ে আসতে বাধ্য না হয়।
মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সংঘাত এই চার শর্ত নিশ্চিত করার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে। রাখাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক পরিস্থিতি বদলাচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণের মানচিত্রও পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে প্রত্যাবাসন নিয়ে শুধু মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান নয়, মাঠপর্যায়ের বাস্তব ক্ষমতার কাঠামোও বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশের ওপর চাপ কতদিন?
বাংলাদেশ মানবিক কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু এই দায়িত্ব অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় জনসংখ্যার চাপ, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি, স্থানীয় শ্রমবাজারের পরিবর্তন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামাজিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হচ্ছে।
তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক তহবিলের অনিশ্চয়তাও রয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, দুর্যোগ ও নতুন নতুন মানবিক সংকটের কারণে দাতা দেশগুলোর অর্থ একাধিক জায়গায় ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার পরিমাণ কমে গেলে শিবিরে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশকে শুধু সাহায্যপ্রাপ্তির কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার, আঞ্চলিক দেশ, জাতিসংঘ এবং প্রভাবশালী বৈশ্বিক শক্তিকে নিয়ে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
খলিলুর রহমানের বক্তব্যে যে বিষয়টি বিশেষভাবে এসেছে, তা হলো বিভাজনের বদলে সংলাপ এবং মেরুকরণের বদলে অংশীদারত্বের নীতি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি বাস্তববাদী অবস্থান। কারণ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে শুধু নৈতিক আবেদন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বার্থকে বিবেচনায় রেখে কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা।
একটি প্রজন্ম যেন হারিয়ে না যায়
রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে করুণ দিক সম্ভবত সেই শিশু ও তরুণদের জীবন, যারা বাংলাদেশে জন্মেছে কিংবা খুব অল্প বয়সে এখানে এসেছে। তাদের অনেকের মিয়ানমারের স্মৃতি পর্যন্ত নেই। তারা বছরের পর বছর শিবিরের সীমিত পরিবেশে বড় হচ্ছে।
এদের মধ্যে যদি মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা ও মানসিক বিকাশের সুযোগ না থাকে, তাহলে একটি পুরো প্রজন্ম সম্ভাবনা হারাতে পারে। দীর্ঘ বেকারত্ব, হতাশা ও পরিচয় সংকট থেকে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
তাই রোহিঙ্গা শিশু ও তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ দেওয়াকে প্রত্যাবাসনের বিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং শিক্ষিত ও দক্ষ একজন ব্যক্তি ভবিষ্যতে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে সমাজ পুনর্গঠনে বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নারী ও মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী জীবনে তাদের ওপর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতার চাপ বেশি পড়ে। তাই তাদের ক্ষমতায়ন রোহিঙ্গা সমাজের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।
সামনে কি নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে?
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ২৯ জুলাইয়ের বক্তব্য এবং বাংলাদেশ থেকে ৩০০,০০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার সম্ভাবনার আলোচনা অবশ্যই একটি নতুন কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কিন্তু অতীতের ব্যর্থ অভিজ্ঞতা মনে রেখে এ বিষয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার আগে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে হবে।
প্রথমত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, যাদের ফেরত নেওয়া হবে তাদের পরিচয় যাচাই ও সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, রাখাইনে তাদের জন্য নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। চতুর্থত, নাগরিকত্ব বা অন্তত পূর্ণ আইনি অধিকার নিয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন। পঞ্চমত, পুরো প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক নজরদারি থাকতে হবে।
এসব শর্ত পূরণ হলে নতুন উদ্যোগ সত্যিকার অর্থে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। অন্যথায় এটি আরও একটি ঘোষণা হয়ে ইতিহাসে যোগ হবে।
সমাধানের মূল চাবিকাঠি রাজনৈতিক
রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ দুর্ভোগ আমাদের একটি বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—মানবিক সহায়তা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রহীনতার সমস্যার সমাধান করতে পারে না। খাদ্য দেওয়া যায়, চিকিৎসা দেওয়া যায়, অস্থায়ী আশ্রয়ও দেওয়া যায়; কিন্তু নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অধিকার এবং স্বদেশে মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের অধিকার শুধু রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।
রোহিঙ্গারা যদি সত্যিই পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রহীন হয়ে থাকে, তাহলে তাদের সংকটের সমাধানও হতে হবে নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে। মিয়ানমারের ভেতরে এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে জাতিগত পরিচয় কোনো ব্যক্তির নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণ হবে না।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বড় মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। এখন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তির দায়িত্ব হলো এমন একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা, যাতে প্রত্যাবাসন শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে শুরু হয়।
রোহিঙ্গাদের জন্য ভবিষ্যৎ মানে শুধু শিবিরে আরও কয়েক বছর টিকে থাকা নয়। ভবিষ্যৎ মানে নিজের পরিচয় ফিরে পাওয়া, শিক্ষা লাভ করা, কাজ করার অধিকার পাওয়া, নিজের জমিতে নিরাপদে বসবাস করা এবং সন্তানদের এমন একটি জীবন দেওয়া যেখানে তারা শরণার্থী পরিচয়ের বাইরে নিজস্ব স্বপ্ন গড়ে তুলতে পারে।
প্রায় এক দশক পার হওয়ার পর রোহিঙ্গা সংকট এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে মানবিক সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আরও দৃঢ় পদক্ষেপ জরুরি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ১৮০,০০০ জনকে ফেরার উপযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করার ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ থেকে ৩০০,০০০ ও মালয়েশিয়া থেকে ৫,০০০ রোহিঙ্গাকে নেওয়ার সম্ভাবনার আলোচনা নতুন আশার ইঙ্গিত দিতে পারে।
তবে এই আশা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে মিয়ানমারের ভেতরে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, অধিকার ও স্থিতিশীলতার বাস্তব পরিবর্তনের ওপর।
কারণ রোহিঙ্গা সংকটের চূড়ান্ত সমাধান বাংলাদেশের শিবিরে নেই। সমাধান রয়েছে তাদের নিজ মাতৃভূমিতে এমন পরিস্থিতি তৈরির মধ্যে, যেখানে তারা আর রাষ্ট্রহীন মানুষ হিসেবে নয়, পূর্ণ অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে ফিরে যেতে পারবে।
সেই দিন যত দেরিতে আসবে, ততই একটি পুরো প্রজন্ম অনিশ্চয়তার মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। আর তাই রোহিঙ্গা সংকটকে বছরের পর বছর শুধু পরিচালনা করা নয়—এখন প্রয়োজন সত্যিকার অর্থে এর সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

