দেশজুড়ে চলমান তীব্র লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মাদারীপুরের এক বিদ্যুৎ কর্মকর্তা। তাঁর নাম সুমন হোসাইন। ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তিনি এই ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে সেটি নিজেই সরিয়ে ফেলেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে একই পেজে আরেকটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানান, ওই ভিডিও বার্তাটির কারণে তিনি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
নতুন পোস্টে সুমন হোসাইন লেখেন, তাঁর ছোট্ট একটি ভিডিও যে নিজের পরিবার, কর্মস্থল এমনকি গোটা দেশের ওপর এতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর চালাচ্ছেন এবং কর্মীদের ওপর হামলা করছেন—এমন পরিস্থিতি এড়াতেই তিনি মূলত ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, লোডশেডিং পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে গ্রাহকদের বোঝানোই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য, যাতে ক্ষুব্ধ জনতা অফিসে হামলার পথে না যান।
তবে বিষয়টি জনসাধারণের কাছে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হবে, এটা তিনি আঁচ করতে পারেননি বলে জানান। তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে এমনভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা তাঁর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। কাউকে দোষারোপ না করে তিনি বলেন, অফিসের কথা চিন্তা করেই তিনি ভিডিওটি বানিয়েছিলেন, তবে সেখানে তাঁর নিজেরও ভুল ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন। অজান্তেই কতটা বড় বিপদ ডেকে এনেছেন, তা এখন তিনি উপলব্ধি করছেন বলে জানান।
পোস্টের শেষাংশে তিনি নিজের দেশ ও দেশের মানুষের কাছে পুনরায় আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে বলেন, তাঁর কথা বা কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে যেন তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। বিশেষভাবে তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিষয়টি এতদূর গড়াবে তা তিনি সত্যিই বুঝতে পারেননি। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা ভিডিও তিনি আর প্রকাশ করবেন না। নিজের ও পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে পোস্টটি শেষ করেন তিনি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। চলমান লোডশেডিং সংকটে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ কতটা তীব্র রূপ নিয়েছে, এই ঘটনা তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

