রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংখ্যার হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হওয়ার আগেই অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গেছে ফলাফল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন সদস্যের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রয়েছে ৯০ জন সদস্য। ফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সামনে রাষ্ট্রপতি হওয়া নয়, বরং নিজের জোটের ভোট ধরে রাখা এবং জোটের বাইরে থেকে কতটি ভোট আদায় করা যায়—সেটিই বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।
২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে দুই প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। আজ রোববার দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে উভয়ের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকলেও কোনো পক্ষই সরে দাঁড়াবে—এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ফলে নির্ধারিত সময়েই দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হওয়ার কথা। তবে এবারের নির্বাচনকে কেবল কে রাষ্ট্রপতি হবেন—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখলে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই আড়ালে থেকে যাবে। বরং ভোটের ব্যবধান, বিরোধী জোটের ঐক্য, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট পড়ার সম্ভাবনা এবং দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা ১২ সংসদ সদস্যের অবস্থানই নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনায় বড় হয়ে উঠতে পারে।
ফলাফল প্রায় নিশ্চিত, তবু ভোট গুরুত্বপূর্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সদস্য ৯০ জন।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় তিনি এখনো শপথ নিতে পারেননি। ফলে ওই আসনটি শূন্য রয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে রয়েছেন ১২ জন সংসদ সদস্য। তাঁদের মধ্যে তিনজন বিএনপির মিত্র গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সদস্য। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন সদস্য রয়েছেন। বাকি আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। তাঁদের বেশির ভাগই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে মির্জা ফখরুল অনেক এগিয়ে। কিন্তু এই ১২টি ভোটই নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
অলি আহমদ যদি নিজের জোটের ৯০টি ভোট অক্ষুণ্ন রাখতে পারেন এবং এর বাইরে আরও কয়েকটি ভোট নিজের দিকে আনতে সক্ষম হন, তাহলে সেটিকে বিরোধী জোট রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবে। বিপরীতে মির্জা ফখরুল বিএনপির বাইরের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেলে সেটিকে তাঁর প্রতি বৃহত্তর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখানো সম্ভব হবে।
অর্থাৎ এবারের নির্বাচনে জয়ী কে হবেন, সেই প্রশ্নের চেয়ে কে কত ভোট পেলেন—এই প্রশ্নটিই শেষ পর্যন্ত বেশি আলোচনায় আসতে পারে।
১২ ভোটের দিকে বিশেষ নজর
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দুই শিবিরের বাইরে থাকা ১২ সংসদ সদস্যকে নিয়ে।
অলি আহমদের জন্য এই ১২ ভোটের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ তাঁর হাতে থাকা ৯০টি ভোট যদি পুরোপুরি অটুট থাকে, তাহলে তিনি বিরোধী জোটের ঐক্য ধরে রাখার সক্ষমতা দেখাতে পারবেন। কিন্তু জোটের নির্ধারিত ৯০ ভোটের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট অন্যদিকে চলে গেলে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্যদিকে মির্জা ফখরুলের জন্যও এই ভোটগুলো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির ২৪৭ ভোট তাঁর জয় নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট হলেও দলীয় বলয়ের বাইরে থেকে ভোট পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার পরিধি নিয়ে একটি আলাদা বার্তা তৈরি করতে পারে।
তাই ভোটের ফল ঘোষণার পর শুধু জয়ী প্রার্থীর নাম নয়, দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের হিসাবও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
প্রকাশ্য ভোট, তাই ভিন্ন অবস্থানের সুযোগ সীমিত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেন। ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নামের পাশাপাশি ভোটদাতা সংসদ সদস্যের নাম ও আসন নম্বরও উল্লেখ থাকে। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, সেটি শনাক্ত করা সম্ভব।
এ কারণেই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনৈতিক ঝুঁকি অনেক বেশি।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ১১ আগস্ট বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যেতে পারে।
তবে এই বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যাখ্যায় ভিন্নমত রয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদে আইন প্রণয়ন বা কোনো সাধারণ সংসদীয় ভোটের মতো নয়; এটি নির্বাচন কমিশন পরিচালিত একটি পৃথক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে দেওয়া বৈধ ভোট বাতিল করারও কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।
তবে বাস্তব রাজনীতির হিসাব আইনি বিতর্কের চেয়ে ভিন্ন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে দলীয় অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ভোট দেবেন—এমন সম্ভাবনা খুব বেশি বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা।
১৯৯১ সালের পর আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন
বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সে সময় সংসদে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল।
ওই সংসদে মোট ৩৩০ সদস্যের মধ্যে ৬৬ জন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি।
এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। বর্তমান সংসদে প্রায় সব সদস্যই মূলত দুই বড় রাজনৈতিক বলয়ের একটির সঙ্গে যুক্ত। ফলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বড় ধরনের ভোট-বিচ্যুতির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
তবুও ২০ আগস্টের ভোট রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এটি শুধু একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নয়, বরং জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী জোটের সংসদীয় শক্তির একটি প্রকাশ্য চিত্রও তুলে ধরবে।
অলি আহমদের প্রার্থিতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
কর্নেল (অব.) অলি আহমদের প্রার্থিতা এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তিনি শুধু বিরোধী জোটের একজন প্রার্থী নন; একসময় তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
১৯৮০ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় তিনি যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
সেই অর্থে একসময় বিএনপির রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন অলি আহমদ এখন সেই দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনই তাঁর প্রার্থিতাকে শুধু একটি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না রেখে প্রতীকী অর্থও দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের একটি আলাদা বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে অলি আহমদের মতো একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে সামনে রাখা বিরোধী জোটের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচনের আগেও অলি আহমদকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছিল জামায়াত।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
৯০ ভোট অটুট থাকবে কি না, সেটিই বড় পরীক্ষা
রাজনৈতিকভাবে অলি আহমদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাঁর নিজের জোটের ৯০টি ভোট।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা তাঁর নেই—এটি সংখ্যার হিসাবেই স্পষ্ট। কিন্তু তিনি যদি ৯০টি ভোটের প্রায় পুরোটা পান, তাহলে সেটি বিরোধী জোটের সাংগঠনিক ঐক্যের একটি দৃশ্যমান প্রমাণ হবে।
অন্যদিকে ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে বিরোধী জোটের ভেতরের মতপার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
জাতীয় নির্বাচনের পর ১১-দলীয় ঐক্য কতটা কার্যকরভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেই প্রশ্নের একটি প্রাথমিক পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতেই এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছিল। ফলে এখন তাঁকে প্রার্থী করা একদিকে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়, অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাইরে থাকা বিরোধী শক্তির রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার প্রচেষ্টাও।
মির্জা ফখরুলের জন্যও এটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন
অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা বিএনপির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকার সময়ে দলের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ছিলেন বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ।
তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার অর্থ হলো দীর্ঘদিনের সক্রিয় দলীয় রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে যাওয়া।
এটি বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি ইঙ্গিত দিতে পারে। দলের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের একজন পরীক্ষিত নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও দলীয় রাজনীতির মধ্যে নতুন ধরনের ভূমিকা তৈরি হতে পারে।
ভোটের ফলের পর শুরু হবে আসল রাজনৈতিক হিসাব
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয় এখন অনেকটাই নিশ্চিত। ২৪৭টি আসনের সমর্থন নিয়ে তাঁর পরাজয়ের সম্ভাবনা বাস্তবে খুবই কম। কিন্তু নির্বাচনটি তাই বলে নিছক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হচ্ছে না।
২০ আগস্টের ভোটে অন্তত চারটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে থাকবে। অলি আহমদ নিজের জোটের ৯০টি ভোটের কতটি পান, দুই প্রধান রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থাকা ১২ সংসদ সদস্যের ভোট কোন দিকে যায়, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো ভোট পড়ে কি না এবং শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান কত থাকে—এসবই নির্বাচনের পর রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল হয়তো আগেই অনুমান করা যাচ্ছে। কিন্তু ভোটের বিন্যাসটি জাতীয় রাজনীতির বর্তমান শক্তির ভারসাম্য, বিরোধী জোটের ঐক্য এবং ক্ষমতাসীন দলের বাইরের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।
তাই ২০ আগস্টের নির্বাচনকে শুধু কে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হবেন—এই প্রশ্নে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেকটাই কমে যাবে। বরং আসল প্রশ্ন হবে, ২৪৭ বনাম ৯০-এর এই সংখ্যার বাইরে আরও কোনো রাজনৈতিক হিসাব বেরিয়ে আসে কি না।

