দুর্নীতি দমন কমিশনের নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। এই নিয়োগ দুদকের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে, কেননা ট্যাক্স ক্যাডার থেকে আসা কোনো কর্মকর্তা এই প্রথমবারের মতো কমিশনার পদে দায়িত্ব পেলেন। এর আগে ট্যাক্স ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা প্রেষণে দুদকের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকলেও কমিশনার পদে এই প্রথম কেউ নিয়োগ পেলেন।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুদক আইন, ২০০৪ অনুযায়ী তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারকের সমপর্যায়ের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ট্যাক্স ক্যাডারে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার দীর্ঘ কর্মজীবন। প্রায় তিন দশকের বেশি সময় দায়িত্ব পালন শেষে ২০২২ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য পদ থেকে অবসরে যান তিনি। এরপর ২০২৫ সালের ৪ মে তাকে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়, যে দায়িত্ব বর্তমানে তিনি পালন করছেন। কর নীতি, কর আইন, নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধের মতো ক্ষেত্রে তার বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানা গেছে, যা দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তে বাড়তি গুরুত্ব বহন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লার একটি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং স্থানীয় একটি সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায় প্রশাসনে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে ব্যাংকিং খাতে কাজ করেছেন এবং কিছুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন। বর্তমানে দেশের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও যুক্ত আছেন তিনি, যা তার একাডেমিক ও প্রায়োগিক জ্ঞানের সমন্বয়ের একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান এবং আরেকজনকে অপর কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩ মার্চ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করার পর সংস্থাটিতে দীর্ঘদিন নেতৃত্বশূন্যতা বিরাজ করছিল। এই শূন্যতা কাটাতে সরকার একটি সার্চ কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। কমিটি ছয় দফা বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করে অবশেষে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের নাম চূড়ান্ত করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তার দুদক কমিশনার হিসেবে যুক্ত হওয়া আর্থিক দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত জটিল আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণে কারিগরি দক্ষতা থাকা একজন কর্মকর্তার অন্তর্ভুক্তি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাস্তবে এই নিয়োগের প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নতুন কমিশনের সার্বিক স্বাধীনতা ও কার্যক্রমের গতির ওপর।

