বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে না হতেই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে তুঙ্গে। এই সম্ভাব্য রদবদলে নতুন মুখ হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। দীর্ঘদিন ধরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে থেকে যাওয়া এই নেতা এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন কি না সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাননি হাবিব উন নবী। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কোটায়ও তার জায়গা হয়নি। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকে ভবিষ্যতে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তাদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও নেতৃত্বের গুণাবলীর কারণে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব পালনের যোগ্য।
সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাবিব উন নবী খান সোহেল এ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার কথা দল দলের মত দেখুক, দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই মন্ত্রী করবে। জনগণের মধ্যে কার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু, জনগণ কাকে কীভাবে নিচ্ছে এগুলো তো যোগ্যতার মাপকাঠি’।
দলের প্রতি আনুগত্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘দল যদি মনে করে আমাকে দিয়ে কাজটা হবে তাহলে আমি করব। দল আমাকে তৈরি করেছে, দল আমাকে যখন যে কাজে লাগাবে আমি সে কাজ করব। আমি প্রস্তুত’। কিন্তু তিনি নিজেকে কখনো বঞ্চিত মনে করেন না। দলের তৈরি করা মানুষ হিসেবে দল যেভাবে রাখে, যে কাজ দেয় সেটাই তিনি করেন। এমপি বা মন্ত্রী হওয়াকেই তিনি বড় করে দেখতে চান না।
হাবিব উন নবী খান সোহেলের রাজনৈতিক জীবন কিন্তু সহজ ছিল না। তিনি ছাত্র রাজনীতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বিএনপিতে এসেছেন। আগামী নির্বাচনী সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে পাঁচ শতাধিক মামলা দায়ের হয়। একাধিকবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অনেক মামলাকেই দলীয় নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা বলে মনে করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
শুধু হাবিব উন নবী নন, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে আরও কয়েকজনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। মিত্র দল বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, টেকনোক্রেট কোটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না তারা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেও মূল্যায়ন না পাওয়া নেতাদের নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা আসলে নতুন নয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর কর্মদক্ষতা ও ভাবমূর্তি অনুযায়ী মন্ত্রীদের মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আর এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পুনর্গঠন বা রদবদল হবে।
বিশেষ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় তার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। আর শাহিদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি হয়েছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই রদবদলের মধ্যেই নতুন মুখ নিয়ে আলোচনা চলছে। যারা দীর্ঘদিন আন্দোলনে থেকে গেছেন, তাদের মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি এই কথাটি হয়তো মাথায় রেখেই চলছে পুনর্গঠনের প্রস্তুতি।
হাবিব উন নবী খান সোহেলের কথায় ফিরে আসা যাক। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দল যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই মন্ত্রী করবে। আর তিনি প্রস্তুত যেকোনো দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই গুঞ্জন কি বাস্তবে রূপ নেয়? নাকি আবারও অপেক্ষায় থাকতে হবে হাবিব উন নবীকে? উত্তর হয়তো মিলবে খুব শিগগিরই।

