রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে অচেতন অবস্থায় বসে থাকা এক তরুণীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অবশেষে নিজেই মুখ খুলেছেন তিনি। শনিবার দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের মুখোমুখি হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সেদিন তিনি নিজের ইচ্ছাতেই মদ পান করেছিলেন এবং মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা তাকে সাহায্য করতেই এসেছিলেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের একজন উপ-পুলিশ কমিশনার গণমাধ্যমকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী তাদের বলেছেন যে পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন, আর সেই অশান্তি থেকেই নিজের বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন। এরপর অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়লে পরিচিত দুই ব্যক্তিকে ফোন করেন তিনি, যারা এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে তার দাবি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকে এখনো শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের ধারণা, তারা হয়তো ভয়ে সামনে আসছেন না, তবে তাদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তরুণীর ভাষ্যমতে, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তার পরিচিত, যাদের তিনি চাচা বলে চেনেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একাধিক বিয়ে সংক্রান্ত যেসব তথ্য ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, তার সাবেক স্বামী তাকে বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, আর এ কারণেই তিনি দীর্ঘদিন মানসিক অশান্তির মধ্যে ছিলেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলের মাঝখানে ওই তরুণীকে প্রায় নিস্তেজ অবস্থায় বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে তাকে মৃত বা গুরুতর অসুস্থ ভেবে নানা মন্তব্য করতে থাকেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি জীবিত এবং সুস্থ আছেন।
তবে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে এখনো পুরোপুরি স্পষ্টতা আসেনি। তরুণীকে কেন ওই অবস্থায় মোটরসাইকেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, দুই আরোহী কারা এবং তারা ঠিক কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন—এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ইতিমধ্যে মোটরসাইকেলের নম্বর শনাক্ত করেছে এবং এর মালিক ও দুই আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং মোটরসাইকেলের মালিকানা, ভিডিওর উৎস, ঘটনাস্থলের বিস্তারিত তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট সবকিছু যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের কাছে তরুণীর দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির মধ্যে কিছুটা অসামঞ্জস্য রয়েছে, যে কারণে তদন্তে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বক্তব্য সংগ্রহ করা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলেই ওই রাতের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।
বর্তমানে ওই তরুণী সুস্থ আছেন এবং তাকে তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের সম্পৃক্ততা আছে কি না, নাকি এটি নিছক একজন অসুস্থ তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনা—তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

