দেশের একটি বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলম। সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তার এই দায়িত্বগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ভাষ্যমতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে নতুন এই ডিরেক্টরের। তার এই অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলম বলেন, মানবিক সেবাকে তিনি নিছক দান হিসেবে না দেখে সমাজের প্রতি একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই বিবেচনা করেন। দেশের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত বলে জানান এবং বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সুশাসনের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন জানান, দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও টেকসই উদ্যোগ নেবে, আর এই যাত্রায় নতুন ডিরেক্টরের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা মূলত কাজ করে থাকে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু, অসহায় পরিবার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে। দেশের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।
প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে করোনা মহামারির সময় মরদেহ দাফনে সহায়তা, বিভিন্ন বছরের বন্যায় ত্রাণ কার্যক্রম, দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কর্মসংস্থানমুখী একটি প্রকল্প, টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে খাবার বিতরণের উদ্যোগ। এছাড়া তুরস্কের ভূমিকম্প এবং গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটেও সহায়তা পাঠানোর কথা জানিয়েছে তারা। রাজধানীর হাজারীবাগে নিজস্ব মাদ্রাসা, আশ্রয়কেন্দ্র ও এতিমখানাও পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন নিজেদের একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংস্থা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে তারা নিবন্ধিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানে দেওয়া দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত সুবিধা পাবে, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন ডিরেক্টরের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটির সেবামূলক কার্যক্রম আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে।

