দেশের সড়ক নির্মাণে এবার মালয়েশিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যাতে বর্ষার তীব্র বৃষ্টিতেও রাস্তা সহজে নষ্ট না হয়। এ বিষয়ে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্যে, মালয়েশিয়ায় সড়ক নির্মাণে বিশেষ এক ধরনের রাবারমিশ্রিত বিটুমিন ব্যবহার করা হয়, যার কারণে সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও রাস্তা টিকে থাকে দীর্ঘদিন।
আজ রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের সঙ্গে এক বৈঠকে এই প্রযুক্তি বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, পলিমার মিশ্রিত এই বিটুমিন মূলত সড়কের কার্পেটিং কাজে ব্যবহৃত হয়। মালয়েশিয়ার আবহাওয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত হলেও দেশটির সড়কের কার্পেটিং সহজে নষ্ট হয় না, কারণ তারা বিটুমিনের সঙ্গে রাবার মিশিয়ে ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সহযোগিতাই এখন মালয়েশিয়ার কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে।
আকর্ষণীয় একটি তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে একেবারে নতুন নয়। প্রায় দুই দশক আগে বগুড়া সদর এলাকায় একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় মালয়েশিয়া থেকে এই পলিমার মিশ্রিত বিটুমিন এনে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা এখনও ভালো অবস্থায় টিকে আছে বলে জানান তিনি।
তাঁর তথ্যমতে, সরকার এখন পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। যেহেতু প্রযুক্তিটি বর্তমানে দেশে সহজলভ্য নয়, তাই প্রাথমিকভাবে মোট সড়কের প্রায় ২০ শতাংশে এই রাবারমিশ্রিত বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্রামীণ সড়কের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন সড়ক নির্মাণেও ধীরে ধীরে এই পদ্ধতি ব্যবহারের দিকে এগোবে সরকার।
সড়ক প্রযুক্তির পাশাপাশি বৈঠকে আরও কয়েকটি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ইলেকট্রিক যানবাহন, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হালাল খাদ্যশিল্পেও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী মালয়েশিয়া। সব মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি, যা খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়াও আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ শুরু হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

