আপনি যদি ভাবেন, আবর্জনা দিয়ে কোনো লাভ হয় না, তাহলে আপনার ধারণা বদলে যেতে পারে। আজ না হয় আগামীকাল। কারণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এক যৌথ উদ্যোগে চালু করেছে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ নামে এক অভিনব কর্মসূচি। এর আওতায় নাগরিকরা প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য জমা দিয়ে পাবেন চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, ডিম, মাছ ও টিস্যু দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব পণ্য। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর হাজারীবাগ বস্তি সংলগ্ন মাঠে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
বর্জ্য সংগ্রহ ও বিনিময়ের এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ। নাগরিকরা প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ, কাচসহ বিভিন্ন ধরনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য জমা দেবেন। আর তার বিনিময়ে পাবেন নিত্যপণ্য। উদ্বোধনী দিনেই হাজারীবাগের বাসিন্দারা বর্জ্য জমা দিয়ে অস্থায়ী স্টল থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, ডিম, মাছ ও টিস্যু সংগ্রহ করেছেন। ডিএসসিসি প্রশাসক জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। বিশেষ করে যে বর্জ্য ড্রেন, নালা-নর্দমায় ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা দিলে পরিবেশ যেমন সুরক্ষিত হবে, তেমনি কমবে জলাবদ্ধতার সমস্যাও।
শুধু বর্জ্য সংগ্রহই নয়, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নগরবাসীর মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রান্তিক মানুষকে শুধু সাহায্য না দিয়ে পরিচ্ছন্নতার অংশীদার করছি। তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বর্জ্য সংগ্রহে, আর বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী’।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় করেছে, যা দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো সম্ভব হয়েছে। ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দের এই উদ্যোগের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুধু হাজারীবাগেই থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল নির্মাণ করা হবে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী স্টল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’।
পাশাপাশি সুবিধাজনক অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) কাছে পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ, শিক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা দুটোই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার এই উদ্যোগ যদি সত্যিই টেকসই হয়, তাহলে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র বদলে যেতে পারে। আর সেই সঙ্গে বাড়তে পারে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সচেতনতা। বর্জ্য ফেলে দেওয়ার বদলে সেটি জমা দিয়ে যখন পণ্য কেনা যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সচেতন হবে। এখন দেখার বিষয়, এই ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কতটা কার্যকর হয় এবং নগরবাসী কতটা সাড়া দেয়।

