জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লড়তে চান লন্ডনভিত্তিক এক আইনজীবী গ্রায়েম । এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন তিনি। রোববার রাতে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেন সালমান এফ রহমানের নিযুক্ত আইনজীবী।
জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদনটি জমা দেন ওই ব্রিটিশ আইনজীবী। আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর নির্দিষ্ট একটি ধারার উল্লেখ করে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রস্তাব দিয়ে নিজের প্রোফাইল ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন তিনি।
এর আগেও একবার বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের চেষ্টা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাইব্যুনালের একটি বিচারিক প্যানেলে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন সালমান এফ রহমানের আইনজীবী। তখন জানানো হয়, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে হলে প্রথমে ট্রাইব্যুনালের সম্মতি প্রয়োজন হয়, এরপর যেতে হয় বার কাউন্সিলের কাছে। তবে সেই আবেদনে আপত্তি জানিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা।
মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। সালমান এফ রহমানের পাশাপাশি এই মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক এক আইনমন্ত্রীকেও। এ পর্যন্ত মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষী তাদের বক্তব্য দিয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দুই আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এর আগের বছরের ডিসেম্বরে অভিযোগগুলো আমলে নেওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে জড়িত ছিলেন এই দুই ব্যক্তি। অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়, যেখানে কঠোর দমননীতি ও কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর প্রসঙ্গ উঠে আসে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই পরিকল্পনা ও প্ররোচনার জেরেই বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান, অথচ পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ২৩ জুলাই সংঘটিত এক প্রাণঘাতী ঘটনায় এই দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ। তাদের প্ররোচনাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক কর্মীরা সহিংস কার্যক্রমে অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে দুজনের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্যমতে, তাদের ইন্ধনেই মিরপুরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় জুলাই মাসের শেষ দিকে আরও একটি প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে।
চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, কারফিউ জারি এবং অস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনার মাধ্যমে আগস্টের শুরুতে মিরপুরের একটি এলাকায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হন। পঞ্চম অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্টের বৃহৎ গণজমায়েত ঠেকাতে দুই ব্যক্তি পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের, যার জেরে রাজধানীর একাধিক এলাকায় প্রশাসন ও দলীয় কর্মীদের হামলায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আসামিপক্ষের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের এই উদ্যোগ আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বার কাউন্সিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এই আইনজীবী দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই বিচারপ্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারবেন কি না।

