দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত একটি উন্নয়নশীল দেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনের সব দফতরের কর্মকর্তাদের একজোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান একেবারে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো হবে না।
আজ সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের সার্বিক উন্নয়নে ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কল্যাণ অফিস চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে এবং এর অংশ হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রোগীদের খাদ্যমানও বাড়ানো হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সমাজের প্রায় সব স্তরেই দুর্নীতির প্রভাব বিস্তার লাভ করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সমাজের সব পর্যায় থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় এলেই ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার একটি প্রবণতা ছিল, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর হুমকি দিয়ে সেই অর্থ গ্রহণে বাধ্য করা হতো। এ ধরনের অনিয়মের সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি।
মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, মাদকাসক্তি কেবল একজন ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, বরং এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী, মানিকগঞ্জের দুই আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

