জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক এবং শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দুইজন অধ্যাপক এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক। এর বাইরে পৃথক একটি ঘটনায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করেই শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপককেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পৃথক একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা সিন্ডিকেটের সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সংবাদমাধ্যমের কাছে এসব সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উপ-উপাচার্যের ভাষ্যমতে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ওই তিন শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান চালায়। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল গঠন ও বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগীত বিভাগের ওই সহযোগী অধ্যাপক প্রসঙ্গে জানা গেছে, তিনি ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত ছিল, প্রার্থীকে অবশ্যই সংগীত বিষয়েই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে—যে শর্ত তিনি পূরণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ছাত্রী হলগুলোর প্রধান ফটক রাত ১১টায় বন্ধ হবে। পাশাপাশি ছাত্রীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পর্যালোচনার জন্য পৃথক একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, একদিকে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের—বিশেষত ছাত্রীদের—দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানেও মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর তদন্ত প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত ফলাফল।

