বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় আরও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ ডলার।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ‘জাতীয় হিসাব পরিসংখ্যান’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিবিএসের হিসাবে, ৩ হাজার ২০ ডলারের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকার সমান। অন্যদিকে চলতি মূল্যে দেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। স্থির মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৮ কোটি টাকা।
অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি এসেছে সেবা খাতে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। দেশের জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৯ শতাংশ।
সেবা খাতের বিভিন্ন উপখাতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আবাসন ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং পরিবহন খাতে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এসব খাতের তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স সামগ্রিক সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৩৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
শিল্প খাতের ভেতরে কুটির শিল্পে ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র শিল্পে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বৃহৎ শিল্পে প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমেছে। আগের অর্থবছরে বৃহৎ শিল্পে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪২ শতাংশ।
কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ২ দশমিক ৪২ শতাংশের তুলনায় বেশি। জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ সময়ে আমন ধানের উৎপাদন ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১৭৩ দশমিক ৫৯ লাখ টনে পৌঁছেছে। ফলে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিতেও কিছুটা গতি এসেছে।
তবে জিডিপির তুলনায় দেশের মোট বিনিয়োগের হার সামান্য কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের হার ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। আগের অর্থবছরে মোট বিনিয়োগের হার ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিডিপির তুলনায় মোট বিনিয়োগের হার কমেছে।
এদিকে জাতীয় সঞ্চয়ের হার দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে দেশের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ২ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯১৪ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। আগের বছর একই সময়ে রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৬৬৪ কোটি ডলার।
সব মিলিয়ে, মাথাপিছু আয় ও জিডিপির আকার বাড়লেও বিনিয়োগের হার কমে যাওয়া এবং শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার বিষয়টি অর্থনীতির সামনে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে মাথাপিছু আয়ের এই বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা কতটা বাড়াতে পারছে, সেদিকেও নজর থাকবে।

