২ লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটারের এই সুবিশাল স্থাপনার নাম থার্ড টার্মিনাল। নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়বে দ্বিগুণেরও বেশি। এই টার্মিনাল চালু হলে বছরে কমপক্ষে দুই কোটি যাত্রী উন্নত সেবা পাবেন। অথচ ২০২৩ সালের অক্টোবরে আংশিক উদ্বোধনের পর তিন বছর পার হলেও পুরোপুরি চালু করা যায়নি। এখন বর্তমান বিএনপি সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করলেও নানা জটিলতায় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বড় বাধা অর্থের। প্রকল্পের মাত্র দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কাজ বাকি থাকতেই নতুন করে আরও ৯০২ কোটি টাকা খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। গত ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, ‘নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার একটি ভবন উদ্বোধন করেছিল। এর অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হয়নি। এটা চালু করতে হলে ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে’। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপি) এই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে, পরামর্শক খাতে ৩০ কোটি, মূল পরিকল্পনার বাইরের কাজে ২০২ কোটি এবং মেরামত খাতে সবচেয়ে বড় ৬৬৭ কোটি টাকা।
টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে জাপানি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার কথা। কিন্তু এখনও চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। চুক্তির শর্ত, লাভ-ক্ষতির অংশীদারত্ব, পরিচালনার কারিগরি দিক, এসব বিষয়ে দরকষাকষি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সদস্যরা হলেন, জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিটোমো কর্পোরেশন, সোজিৎজ কর্পোরেশন ও নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্পোরেশন। এ ছাড়া টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে তুরস্কের একটি প্রতিনিধি দল এবং নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্বোধন বিলম্বিত হলে জাপানি ঋণের সুদের বোঝা বাড়বে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ ফেলবে। সংশ্লিষ্ট মহলে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে টার্মিনালের ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার খবরও এসেছে। তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত টার্মিনাল চালু হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সের আগমন বাড়বে, টিকিটের দাম কমবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং নতুন মাত্রা পাবে।
অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফারের (ওআরএটি) কাজ এখনও বাকি। অর্থ মন্ত্রণালয় ৯০২ কোটি টাকার বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। বিমানমন্ত্রী বলেছেন, ‘২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের এই সম্পদ ব্যবহার না করে ফেলে রাখলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে’।
প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প চালু হলে যে আয় হবে, তা দিয়ে জাইকার ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব। কিন্তু অপেক্ষা বাড়ছে কেবল চুক্তি আর অর্থায়নের। ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

