বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) ট্রাস্টি বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন ওয়েগা গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. মেসবা উদ্দিন আলী। নবগঠিত বোর্ডের প্রথম সভায় গতকাল সোমবার তাঁকে এ পদে মনোনীত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা, প্রশাসন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বোর্ডের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন আরও জোরদার করার কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিক অগ্রগতি ও বিকাশে সবাই মিলে কাজ করার বিষয়েও তাঁরা একমত হন।
সদস্যরা বিশেষভাবে জোর দেন টেক্সটাইল, পোশাক ও ফ্যাশন খাতে শিক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিইউএফটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর। এ জন্য কৌশলগত উদ্যোগ নেওয়ার কথা তাঁরা বলেন। একই সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দেন তাঁরা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড সাধারণত প্রতিষ্ঠানের নীতিগত দিকনির্দেশনা ঠিক করে। বিশ্ববিদ্যালয় কোন পথে এগোবে, আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে, তা নির্ধারণে এই বোর্ডের ভূমিকা বড়। সে কারণে বোর্ডের চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন, সেটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ দিক বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
এ ক্ষেত্রে ইঙ্গিতটি শিল্পের দিকে। মেসবা উদ্দিন আলী একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর শীর্ষ পদে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামেও পোশাক খাতের প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএর সংযোগ স্পষ্ট। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির জন্মই শিল্পের প্রয়োজন থেকে। শিল্পসংশ্লিষ্ট একজন ব্যবসায়ী নেতাকে বোর্ডের প্রধান করা সেই ধারারই ধারাবাহিকতা বলে মনে হয়। বৈঠকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যের ওপর জোর দেওয়াও এই ধারার সঙ্গে মেলে।
এই সংযোগের সুবিধা স্পষ্ট। পোশাক ও টেক্সটাইল খাত দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান ভরসা। এই খাত এখন দক্ষ জনবলের ঘাটতি, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক ক্রেতাদের বাড়তি মানদণ্ডের চাপে আছে। শিল্প যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও গবেষণার দিক ঠিক করতে সরাসরি ভূমিকা রাখে, তাহলে স্নাতকেরা কারখানার প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি হয়ে বেরোতে পারেন। এতে চাকরির বাজারে তাঁদের অবস্থান শক্ত হয়।
তবে এর একটি অন্য দিকও আছে। শিল্পের চাহিদা মেটানো যেমন জরুরি, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতা ও গবেষণার মানও ধরে রাখতে হয়। শিক্ষা যদি শুধু বর্তমান শিল্পের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে সীমিত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার সুযোগ কমে যেতে পারে। ফ্যাশন ও প্রযুক্তির জগৎ দ্রুত বদলায়। তাই দক্ষতা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনেও নজর দেওয়া দরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু তথ্য নেই। আগের চেয়ারম্যান কে ছিলেন, বোর্ডের অন্য সদস্য কারা, নতুন বোর্ডের মেয়াদ কত, তা জানানো হয়নি। সভায় সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত, বাজেট বা সময়সীমাও উল্লেখ করা হয়নি। কী ধরনের কৌশলগত উদ্যোগ নেওয়া হবে, সেটিও অস্পষ্ট। ফলে আলোচনার বিষয়গুলো এখন পর্যন্ত দিকনির্দেশনার পর্যায়ে আছে। বাস্তব পরিবর্তন হবে কি না, তা বোঝা যাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি দেখে।
সব মিলিয়ে নতুন বোর্ড ও চেয়ারম্যানের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ দুটি। একটি হলো শিল্পের চাহিদা ও শিক্ষার মানের মধ্যে ভারসাম্য রাখা। অন্যটি হলো বৈঠকের আলোচনাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া। আগামী মাসগুলোতে পাঠ্যক্রম হালনাগাদ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের অগ্রগতি দেখলেই বোঝা যাবে, এই নতুন নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হচ্ছে।

