৪১টি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। পরে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান মামলার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে দেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে সংগৃহীত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে ‘বিবিধ’ বিষয়ে ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর কোন ব্যাংককে কত টাকা দিতে হবে, তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত নীতিমালায় এ ধরনের ট্রাস্টকে অনুদান দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংস্থাটির অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাস্টের ঠিকানায় সরেজমিন পরিদর্শন করে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তর বা এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাস্টের পক্ষ থেকে যেসব কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।
মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সভাপতি থাকার সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যাংকগুলোকে ওই ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।
সিএসআর তহবিল থেকে এভাবে অর্থ দেওয়ার আইনগত সুযোগ না থাকলেও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

