আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি না গেলে অন্য কেউ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছে ভারত।
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কি না, সে সম্পর্কেও ভারত অবগত নয় বলে জানান তিনি।
গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। এর পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে দেওয়া শেখ হাসিনার এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনার মধ্যে ঢাকা দিল্লির কাছে ‘কূটনৈতিক অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির পাশাপাশি দুটি শর্তের কথা জানায়।
ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, তারেক রহমানের সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আসামিদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের দাবিও জানানো হয়।
এর মধ্যেই গত মাসের মাঝামাঝি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, তারেক রহমান ২২ ও ২৩ আগস্ট নয়াদিল্লি সফর করতে পারেন। সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রস্তুতি চলার কথাও তখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে ওই সময়সীমা পার হয়ে গেলেও সফর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এরপর বুধবার ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্ত মূলত তার নিজের ওপরই নির্ভর করছে।
এরই মধ্যে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আবারও বিষয়টি সামনে আসে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এই মুহূর্তে জানানোর মতো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।
একই ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সম্পর্কেও মন্তব্য করতে চাননি জয়সোয়াল। তিনি জানান, এসব প্রতিবেদন নিয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই।
ফলে ব্রিকস সম্মেলন যতই এগিয়ে আসছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে কি না—এ দুটি বিষয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

