জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম বড় প্রত্যাশা ছিল কর্মসংস্থান বাড়ানো ও বৈষম্য কমানো। কিন্তু সেই প্রত্যাশার বড় অংশ এখনো পূরণ হয়নি। বরং এই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বদলে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে, চাকরি হারিয়েছেন বহু মানুষ। সরকারি নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, প্রত্যাশা অনুযায়ী বিনিয়োগ না বাড়া এবং প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণের চাকরির বাজারে প্রবেশ—সব মিলিয়ে দেশে বেকারত্বের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে হতাশা ও কর্মহীনতার কারণে কেউ কেউ ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন, আবার অনেকে মাদকাসক্তও হয়ে পড়ছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে সরকারি হিসাবে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই হিসাব শ্রমবাজারের প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি তুলে ধরে না। কারণ কাজের সন্ধানে ব্যর্থ হয়ে অনেক তরুণ শ্রমবাজার থেকেই সরে গেছেন। আবার অনেকে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তুলনায় অনেক কম মানের কাজে যুক্ত রয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় বা সমমানের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা সব শিক্ষাস্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে গড়ে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেন। অথচ আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি তৈরি হয় প্রায় ৩ লাখ। ফলে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ নতুন গ্র্যাজুয়েট দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
দীর্ঘ সময় চাকরি না পাওয়ার এই পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদরা ‘স্কারিং ইফেক্ট’ হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার কারণে একজন তরুণের আয়, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে বিনিয়োগ ও শিল্পোৎপাদনের সম্পর্ক সরাসরি। নতুন শিল্প গড়ে না উঠলে নতুন চাকরির সুযোগও তৈরি হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে গ্যাসসংকট, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিজিএমইএর সদস্য অন্তত ৮০টি কারখানায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পপুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যের ভিত্তিতে করা বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ১০৮টি, বিকেএমইএর ৩৫টি, বিটিএমএর ৮টি এবং বেপজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৯টি। অর্থাৎ পোশাক, নিটওয়্যার, বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান বন্ধের তালিকায় রয়েছে। বাকি ২৮৭টি ছিল পোশাকবহির্ভূত শিল্প।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে বিনিয়োগ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অথবা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে একদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, অন্যদিকে বিদ্যমান চাকরিও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। তাঁর মতে, বিনিয়োগ ও শিল্পের গতি না বাড়লে বেকারত্ব কমানো কঠিন হবে। শুধু বিদেশে কর্মী পাঠিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়; দেশে টেকসই কর্মসংস্থান তৈরির জন্য শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসানও জ্বালানি সংকটকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি অব্যবস্থাপনা প্রকট হয়ে উঠেছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না, বরং অনেক বিদ্যমান কারখানাও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই এখন নতুন কর্মসংস্থানের পেছনে ছুটার পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলো কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
৫ লাখের বেশি সরকারি পদ শূন্য, তবু নিয়োগ নেই
কর্মসংস্থানের সংকট শুধু বেসরকারি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের শূন্যতা রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুযায়ী, অনুমোদিত ১৯ লাখ ৮৬ হাজার পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ ২২ হাজার পদ এখনো খালি।
অথচ এসব পদে নিয়োগের আশায় লাখো চাকরিপ্রার্থী বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। বিসিএস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থেকে চূড়ান্ত সুপারিশ পর্যন্ত সময় লাগে গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর। নিয়োগের এই দীর্ঘসূত্রতা তরুণদের বেসরকারি চাকরির বাজারেও পিছিয়ে দিচ্ছে।
সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকার পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু রাজনীতিকদের দায়ী না করে আমলাদের ভূমিকাকে তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আমলাদের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে কমান্ডারদের অস্ত্র মেশিনগান আর এখানে আমলাদের অস্ত্র কলম। তাঁরা কেন ভয় পাবেন? সরকারি চাকরি করতে গেলে নানান ধরনের চাপ আসবে। সেই চাপের সম্মুখীন হয়েই কাজ করতে হবে।’
তাঁর মতে, সরকারি নিয়োগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃঢ়তা, সততা ও নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে রাখা বা দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে শূন্যপদ পূরণ হবে, অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও আস্থা তৈরি হবে।
বিদেশের শ্রমবাজারেও বাড়ছে অনিশ্চয়তা
দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে সংকট বাড়লেও বিদেশে কর্মসংস্থান এখনো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ কর্মী বিদেশে গেছেন।
বাংলাদেশ ১৪০টি দেশে কর্মী পাঠালেও বাস্তবে ১০ থেকে ১২টি দেশের ওপর নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। মোট জনশক্তি রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। তবে যুদ্ধের কারণে এই বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিপরীতে জাপান ও ইউরোপের মতো নতুন শ্রমবাজারে সম্ভাবনা বাড়ছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ তরুণ নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। অথচ দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ লাখের মতো। বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে সংকোচন দেখা দেওয়ায় বিদেশি শ্রমবাজার বা অভিবাসন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তাঁর ভাষায়, অভিবাসন এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’। তবে দেশ এখনো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। অথচ ইউরোপ, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নতুন এসব বাজার ধরতে না পারলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করে থাকা যাবে না।
আলী হায়দার চৌধুরীর মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারলে দেশের বেকারত্বের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াও দ্রুত করতে হবে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর নতুন করে ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ প্রবেশ করেন। তাঁদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে কাজের সুযোগ পান। ফলে বাকি ১৪ থেকে ১৫ লাখ মানুষের জন্য দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে নতুন শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের গতি সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। ফলে প্রতিবছর আগের বছরের বেকারের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশ। এতে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।
বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশ এমন এক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈদেশিক ধাক্কার মুখে পড়েছে, যখন দেশের অর্থনীতির সক্ষমতা সীমিত। কর্মসংস্থান সৃষ্টির সীমিত সুযোগ, শ্রম আয়ের দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দরিদ্র মানুষের কাছে যথেষ্টভাবে পৌঁছাচ্ছে না।
২০২৫ সালে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। ২০২৬ সালে আগে যেখানে ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল, এখন সেই সংখ্যা কমে মাত্র ৫ লাখে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থান সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি একে অপরকে আরও তীব্র করছে। চাকরি কমে গেলে মানুষের আয় কমে যায়, আর মূল্যস্ফীতি বাড়লে সেই কমে যাওয়া আয়ও দ্রুত তার ক্রয়ক্ষমতা হারায়।
বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোই মূল চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানা পুনরায় চালু করা, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং শোভন কর্মসংস্থান তৈরি এখন সবচেয়ে জরুরি। একই সঙ্গে শিল্পের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
সরকারি খাতের ৫ লাখের বেশি শূন্যপদ দ্রুত, স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মীদের ভাষা ও যোগাযোগদক্ষতা বাড়ানো, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সময় কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করেছেন তাঁরা।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর মতে, কর্মসংস্থান তৈরির জন্য শুধু বিনিয়োগের ঘোষণা যথেষ্ট নয়; সেই বিনিয়োগকে বাস্তব কারখানা, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়াই মূল বিষয়।
তিনি জানান, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ২৫টি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে ১০ হাজার একরের বেশি শিল্পভূমিতে ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। বন্ধ ও অব্যবহৃত সরকারি শিল্পসম্পদকে আবার উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনাও এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
আশিক চৌধুরী জানান, আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ১ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে বাস্তবায়নের ধীরগতিই এখনো বড় বাধা। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর হতে সময় লাগে। একটি কারখানা চালু করতেও বিনিয়োগকারীদের একাধিক সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়।
তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীদের কাছে নীতির ঘোষণার চেয়ে ধারাবাহিক ও সময়মতো বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসায়িক অনুমোদন দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগামী পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হবে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব প্রকল্প, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়া।’
অর্থাৎ কর্মসংস্থানের সংকট থেকে বের হতে শুধু নতুন চাকরির ঘোষণা নয়, বিনিয়োগকে দ্রুত বাস্তবায়ন, শিল্পকে সচল রাখা, সরকারি শূন্যপদ পূরণ এবং বিদেশি শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীদের প্রবেশ—সব ক্ষেত্রেই একসঙ্গে গতি বাড়ানো এখন জরুরি।

