আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে প্রায় ১০০টি উড়োজাহাজের বহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং পর্যাপ্ত উড়োজাহাজের অভাবে হারানো রাজস্ব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিমান বহর বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় ছোট হওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে দেশ। নতুন নতুন রুট চালু করতে হলে আরও বেশি উড়োজাহাজ প্রয়োজন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের কার্যালয়ে শুক্রবার স্থানীয় সময়ে এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সম্প্রতি আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।
এর আগে বিমান ১৪টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নতুন অর্ডারসহ বিমান বাংলাদেশের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আরও বড় হচ্ছে।
বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের প্রয়োজন বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করতে হলে আরও উড়োজাহাজ প্রয়োজন। বৈশ্বিক বিমান প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে, তাই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকার কারণে বাংলাদেশ বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। দেশের জাতীয় বিমান সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী বোয়িং উড়োজাহাজের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এয়ারবাসসহ অন্যান্য নির্মাতার উড়োজাহাজও প্রয়োজন হতে পারে।
তার মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন রুট চালু করতে হলে ভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ প্রয়োজন। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ উড়োজাহাজের বহর গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আন্তর্জাতিক রুটে বোয়িং ৭৮৭, বোয়িং ৭৭৭ এবং বোয়িং ৭৩৭ নেক্সট জেনারেশন উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যোগাযোগ রয়েছে।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বিমান বাংলাদেশের বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে নির্দিষ্ট চাহিদার রুটগুলোতে ফ্লাইট বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।
এদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং জ্বালানি খাতে এই অঞ্চলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতে শুধু একটি উৎসের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি করা, যাতে সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
বাংলাদেশ নিজেদের সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংরক্ষণাগার ও মজুত সক্ষমতা উন্নয়নের জন্যও অংশীদার খোঁজা হচ্ছে।
তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও জ্বালানি আমদানির সুযোগ তৈরি করা হবে।
সরকারের এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো একদিকে বিমান খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় বহরের বিমান ব্যবস্থা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

