ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গতকাল সকালে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে মরদেহটি শনাক্ত করেন নিহতের স্বজনরা।
পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৫০)। জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা তার সঙ্গে ছিল। ওই টাকা ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর বনানী এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইসমাইলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে নিহতের ছেলে মো. হাসানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলায়। বর্তমানে তারা গাজীপুরের কাশিমপুরের করলাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। তারা এক ভাই ও এক বোন।
হাসান বলেন, তার বাবা ইসমাইল ওই এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তার বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল।
হাসান জানান, তার ছোট বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার প্রস্তুতি চলছিল। পাশাপাশি পরিবারের ওপর অনেক ঋণও ছিল। এসব কারণে প্রায় চার মাস আগে তিনি তাদের গাজীপুরে রেখে একাই গ্রামের বাড়িতে যান জমি বিক্রি করতে।
তিনি বলেন, বসতভিটার ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন তার বাবা। সেই টাকা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন। এরপর বাড়িতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। বাকি ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ইসমাইল।
হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে ইসমাইলের সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, রাত ৩টার গাড়িতে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাবাকে নিতে হাসান আশুলিয়ার জিরানী বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখানে গিয়ে একাধিকবার ফোন করলেও ইসমাইলের মুঠোফোন বন্ধ পান তিনি।
বাবাকে না পেয়ে হাসান বাড়িতে ফিরে যান। পরে শুক্রবার দুপুরে পুলিশের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর তার বাবার মরদেহ পাওয়া গেছে।
নিহতের ভাতিজা মো. মোকাদ্দেস বলেন, ইসমাইলের জামালপুর থেকে গাজীপুরে যাওয়ার কথা ছিল। সে ক্ষেত্রে ঢাকায় যাওয়ার কোনো কারণ ছিল না। তাদের ধারণা, পথে কোনো ছিনতাইকারী বা চক্র ইসমাইলের কাছে টাকা থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে অপহরণ করে থাকতে পারে।
মোকাদ্দেস আরও বলেন, এরপর তাকে হত্যা করে টাকা নিয়ে মরদেহ ফেলে যাওয়ার জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।
মরদেহ উদ্ধারের পর শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছিল, ইসমাইলের পরনে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের পোশাক ছিল। মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পুলিশ ধারণা করছে, হত্যার পর দুর্বৃত্তরা রাত কিংবা ভোরের কোনো একসময় মরদেহটি এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে যায়।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, হত্যার পর কোনো একটি গাড়ি থেকে ইসমাইলের মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

