বিএনপি সরকারের ঘোষিত নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে খুলনায় কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলায় তিন দফা ব্লক জরিপের মধ্যে ইতিমধ্যে দুই দফার কাজ শেষ হয়েছে, আর তৃতীয় দফার জরিপ চলছে। প্রথম দফায় খুলনার ৯টি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৩ হাজার ১০৫ জন কৃষক এই কার্ড পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরই এই ব্লক জরিপের কাজ শুরু হয়।
যেসব ইউনিয়ন প্রথম দফায় কৃষক কার্ডের আওতায় আসছে, সেগুলো হলো, রূপসা উপজেলার নৈহাটি, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর, দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট, ফুলতলা উপজেলার সদর, ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া, তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ, দাকোপ উপজেলার সদর, পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালি এবং কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়ন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের কমিটি এসব ইউনিয়নের কৃষকদের যাচাই-বাছাই করে কার্ড পাওয়ার যোগ্যদের শনাক্ত করেছে। ইতিমধ্যে কমিটি মধ্য আগস্ট পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪৭৯ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করে ব্যাংকে তালিকা পাঠিয়েছে। বাকি কৃষকদের তালিকাও পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা জনতা, সোনালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বার্ষিক অনুদানের অর্থ পাবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনার অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. তৌহিদীন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এটি একটি ডেবিট কার্ড হিসেবে গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে প্রতিবছর কৃষকরা আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন। বিএনপি সরকার ইতিমধ্যে তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১২ লাখ কৃষকের ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে।
শুধু আর্থিক অনুদানই নয়, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আরও নানা ধরনের সুবিধা পাবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সেচসুবিধা, প্রশিক্ষণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, বালাই দমনে পরামর্শ, কৃষিপণ্য বিক্রির সুবিধা, কৃষিবিমা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ঋণ এবং কৃষি উপকরণ পাবেন। অর্থাৎ, এটি শুধু একটি কার্ড নয় বরং কৃষকের জীবনমান বদলে দেওয়ার একটি সম্পূর্ণ প্যাকেজ।
বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে খুলনা জেলায় মোট ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৬০৩ জন কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসবেন। সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। কৃষকদের ভূমির পরিমাণ অনুযায়ী ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়; এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে কার্ড দেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত খুলনায় তিন দফা জরিপের দুটি দফা শেষ হয়েছে। তৃতীয় দফার কাজ শেষ হলে আরও বেশি কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এই কার্ড পাওয়ার পর কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে, তারা জানবেন, সরকার তাদের পাশে আছে। আর এই আত্মবিশ্বাসই হয়তো একদিন খুলনার মাঠকে বদলে দেবে সবুজের সমারোহে।

