দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় ধরনের এক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ চালুর লক্ষ্যে নতুন একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
গত রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। তাঁদের এই অবদানের কথা মাথায় রেখেই আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যে এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জন্য নিয়মিত সম্মানী পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবের সময় বিশেষ উৎসব ভাতা প্রদানেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁদের নিয়মিত আয়ের সংস্থান হয় এবং জীবনযাত্রার মান কিছুটা হলেও উন্নত হয়।
তবে শুধু আর্থিক সহায়তাতেই এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না। নীতিমালায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর কথাও বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে তাঁরা ভবিষ্যতে বিকল্প আয়ের সুযোগও তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে, তেমনি পেশাগত দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিতের মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করা।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতসহ ধর্মীয় সেবকরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা চর্চা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন, অথচ তাঁদের এই অবদান এত দিন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির বাইরে ছিল। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি তাঁদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমে আসবে এবং তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

