দেশের জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব গ্যাস সম্পদ ব্যবহারের দিকে যেতে চায় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম সালেহ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে ইআরএফ ভাষা ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকট একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তাই গ্যাসের সংকট হলে তার প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে প্রচলিত জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর অনেকেই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছে সরকার।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং সমস্যার জন্য অজুহাত দেখাতে চায় না। বরং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই সমাধান নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেশের জ্বালানি সংকটের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশে অফিসের সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং সপ্তাহের কয়েক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের সমস্যার দায় এককভাবে অল্প সময় দায়িত্বে থাকা কোনো সরকারের ওপর চাপানো যুক্তিসঙ্গত নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন দায়িত্বশীল পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
অনুষ্ঠানে তরুণদের জন্য ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন আবু আবদুল্লাহ এম সালেহ। তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে একাধিক ভাষায় দক্ষতা তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশে থেকেই যেন তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে পারে, সেই সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এখন প্রযুক্তির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে। একসময় যে বৈশ্বিক শ্রেণিকক্ষের ধারণা কল্পনার মতো মনে হতো, বর্তমানে তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তাই তরুণদের জন্য একাধিক ভাষা শেখা গুরুত্বপূর্ণ।
ইআরএফকে সদস্যদের জন্য ভাষা শেখার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল হক জাহিদ বলেন, সাংবাদিকদের দৈনন্দিন কাজের জন্য ইংরেজি ভাষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি চীনা, জাপানি ও ফরাসি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে চীনা নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাই বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা সময়ের দাবি।
হেডম্যান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসাইন বলেন, আনন্দদায়ক পরিবেশে ভাষা শেখানো হলে মানুষ দ্রুত আগ্রহী হয় এবং সহজে দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা বলেন, সদস্যদের জন্য বিভিন্ন ভাষা চর্চার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। বিদেশি দূতাবাসগুলোর সহযোগিতায় একাধিক ভাষা শেখার ব্যবস্থা করার বিষয়েও সংগঠনটি কাজ করছে।
তিনি বলেন, ভাষাগত দক্ষতা সাংবাদিকদের কাজ সহজ করে এবং বিদেশি নাগরিক, কূটনীতিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।

