চট্টগ্রাম নগরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রদলের এক নেতার বাসা থেকে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ক্রেতা সেজে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ছাত্রদল নেতা পালিয়ে যান। তবে অবৈধভাবে মদ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবু শাকিল (৩৩) বন্দর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বন্দর থানার কে বি দোভাষ লেন এলাকায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় শাকিলের শোবার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুষ্পেন ব্যানার্জি (৫৮) ও শামসুল ইসলাম (৪৭) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যম গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় মদ কেনাবেচার তথ্য পায় পুলিশের গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগের একটি দল। পরে ওই দলের সদস্যরা ক্রেতা পরিচয়ে সেখানে যান।
পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যাওয়া হয় আবু শাকিলের বাসায়। একপর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে শাকিল সেখান থেকে পালিয়ে যান।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, মাদক কারবারিরা মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামি আবু শাকিলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ঘটনার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদ আবু শাকিলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম এবং সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, “বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে আমরা এ–সংক্রান্ত একটি সংবাদ দেখেছি। এরপর আবু শাকিলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”

