ময়মনসিংহ সদর ও নান্দাইল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদে হঠাৎ রদবদল ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ‘ঘুষ.সাইট’–কাণ্ড এবং অনিয়মের অভিযোগের পর এই বদলি কি না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে শিক্ষা বিভাগ বলছে, এই বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পেনশনের টাকা তুলতে এবং নিজের পাসপোর্ট করতে গিয়ে বারবার ঘুষের দাবির মুখে পড়ে শাহেদ শরীফ আহমেদ নামের এক কিশোর। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সে সম্প্রতি ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে।
সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ময়মনসিংহে প্রায় চার বছর ধরে চাকরি করছেন। সাধারণত তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নেই। অন্যদিকে নান্দাইল থেকে যিনি ময়মনসিংহ সদরে এসেছেন, তিনি প্রায় এক মাস আগে ময়মনসিংহে বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই দুজনের কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। – মো. শফিকুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ জেলাতবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ফজিলাতুন নেছা বলেন, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি প্রায় দেড় মাস আগে বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁর আবেদনে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় বদলির কথা উল্লেখ ছিল। তবে নতুন কর্মস্থলে এখনো যোগ দেননি তিনি। অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ফজিলাতুন নেছা বলেন, বেনামি অভিযোগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। এর সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।
দুই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, বদলির আদেশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে হয়েছে। জেলা কার্যালয় থেকে এই বদলি করা হয়নি। তাই কী কারণে বদলি করা হয়েছে, তা অধিদপ্তর থেকেই জানা যাবে। তিনি বলেন, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ময়মনসিংহে প্রায় চার বছর ধরে চাকরি করছেন। সাধারণত তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নেই। অন্যদিকে নান্দাইল থেকে যিনি ময়মনসিংহ সদরে এসেছেন, তিনি প্রায় এক মাস আগে ময়মনসিংহে বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই দুজনের কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে ঘটনা বা এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের কারণে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে কি না—এমনটি মনে করেন না শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ওই কারণে বদলি করা হলে তাঁকে আরও দূরে দেওয়া হতো বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতো।’
‘ঘুষ.সাইট’–সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে কোনো আবেদনই করেননি। গত মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আবেদন জমা পড়েনি। কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য আবেদনই যদি না করা হয়ে থাকে, তাহলে ঘুষ চাইবে কে, নেবে কে?
সোর্সঃ প্রথম আলো



