আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন একজন সংসদ সদস্য, সংস্থাটির একজন কারিগরি উপদেষ্টা এবং দুজন তরুণ রাজনীতিবিদ ও প্রশিক্ষণার্থী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকে মূলত সাইবার অপরাধ ও অনলাইন বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। এ সময় প্রতিনিধিদলের নেতা মন্ত্রীকে তাদের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা সংক্রান্ত কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা বর্তমানে সংগঠিত অপপ্রচার ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে হয়রানি ও মানহানির মুখে পড়ছেন, যা মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ের জন্য একটি সর্বসম্মত নীতি ও আইনগত সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন অবস্থানে রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার সংরক্ষিত। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, গঠনমূলক সমালোচনা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চরিত্রহনন বা অশালীন আক্রমণ—এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সিনিয়র সম্পাদক এবং বিভিন্ন সুশীল সমাজ প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হবে ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, নারী ও তরুণদের সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়া, এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—যাতে আইনটির কোনোভাবেই অপব্যবহার না ঘটে। তিনি জানান, সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ ও শক্তিশালী ডিজিটাল নিরাপত্তা গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি অংশীজনদের যেকোনো ইতিবাচক পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করবে সরকার।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং সংশ্লিষ্ট অধিশাখার একজন যুগ্মসচিবও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল স্পেসে বাক-স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে আইন প্রণয়ন একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে চলমান পরামর্শ প্রক্রিয়া আইনটির গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

