বাংলাদেশে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় একটি অংশ ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার অভিযোগ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতায় থাকার সময়ে তারা দেশের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করেছে এবং বিদেশে অর্থ পাচার করেছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফিলিপাইনে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অনেকেই কারাগারে থাকলেও বাংলাদেশে এ ঘটনায় জড়িতদের কারও বিচার হয়নি বলে আক্ষেপ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অদ্ভুত দেশ আমাদের! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর।’
স্পিকার আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও নেতাদের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে বিপুলসংখ্যক বাড়ি থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব সম্পদ বাংলাদেশের জনগণের অর্থ লুট করে বিদেশে নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনে আওয়ামী লীগ আমলের কিছু কর্মকর্তা এখনো রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, এ কারণে সরকারের আগের সময়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি জনগণের সামনে আসছে না।
ভারতের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি বাংলাদেশকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের চেয়ে ভারতের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই সময়ে ভারতের সঙ্গে এমন কিছু চুক্তি করা হয়েছে, যেগুলো বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ এলে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও যথাযথ শুল্ক আদায় করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্পিকার। এতে দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তে প্রায়ই গুলির ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

