রাজধানীর একটি হাসপাতালে নয় মাস বয়সী একটি শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রাথমিক পরিদর্শনে এমন কোনো অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি আগে থেকেই একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল এবং আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার বেলা এগারোটার দিকে রাজধানীর নির্দিষ্ট এই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ন এলাকার একজন সহকারী কমিশনার। পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত মহাপরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে হাসপাতালের কোনো অবহেলা তারা খুঁজে পাননি এবং শিশুটি বেশ কয়েকটি জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লাইভ ভিডিওটি করেছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি শিশুটির সরাসরি নিকটাত্মীয় নন, বরং একজন কনটেন্ট নির্মাতা। এ ছাড়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কক্ষে (পিআইসিইউ) ভাঙচুরের ঘটনাকে তিনি স্পষ্টভাবে ফৌজদারি অপরাধ বলে চিহ্নিত করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে এ বিষয়ে আইনগত সহায়তা নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী একটি তদন্ত দল পুরো ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছে। এর পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিশেষ করে অতিরিক্ত ফি আদায় ও দালাল-দৌরাত্ম্য সংক্রান্ত অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
ঘটনার সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না—রোগীর স্বজনদের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় দুজন চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন, তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিরাপত্তার কারণে তারা সাময়িকভাবে অন্য একটি কক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ও নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট নির্ধারিত মান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, এবং অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটি আছে কি না—এসব বিষয়ও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে তিনি জানান।
হাসপাতালের সংশ্লিষ্ন একজন চিকিৎসক জানান, শিশুটি আকস্মিকভাবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয় এবং এক পর্যায়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার পরদিনই শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। হাসপাতালের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাও অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে রোববার রাতের দিকে শিশুটির পরিবারের এক সদস্য হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ও খরচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। তার দাবি অনুযায়ী, শিশুটিকে সেপ্টেম্বরের শুরুতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং ভর্তির সময় চিকিৎসকরা রক্তে সুগারের মাত্রা কম থাকার কথা জানিয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন সময়ে শিশুটির অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কথাও তাদের জানানো হয়। তার ভাষ্যে, হাসপাতাল থেকে পরদিন ছাড়পত্র দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও আচমকা পরিবারকে জানানো হয় শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। এরপর শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বাধা দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন, এবং একপর্যায়ে জোর করে পরিচর্যা কক্ষে প্রবেশ করে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তিনি দাবি করেন। তখন ডাকাডাকি করেও কোনো চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পাননি বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

