নিবন্ধনহীন একটি মোটরসাইকেল আটক করাকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের গাড়িটি আটকের জেরেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
সোমবার রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশ সদস্যদের কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের একটি এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আক্তারের মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। যাচাইয়ে দেখা যায়, গাড়িটির কোনো নিবন্ধন নেই, ফলে নিয়ম মেনে সেটি আটক করা হয়। এই আটক নিয়ে ঘটনাস্থলেই পুলিশের সঙ্গে আক্তারের বাগবিতণ্ডা হয়।
বিষয়টি জানার পর অর্ধশতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। মূল ফটক আটকে রাখায় সেখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা কিছু সময়ের জন্য কার্যত আটকে পড়েন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা যখন ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে যান, তখন ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার জন্য সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলার একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন, যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে দায়িত্বরত একজন পুলিশ সদস্য চেকপোস্টে মোটরসাইকেলটি থামানোর সংকেত দিলে সেখানেই আক্তারের সঙ্গে বচসা শুরু হয়, পরে কাগজপত্র না থাকায় গাড়িটি আটক করা হয়। এর প্রতিবাদেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তিনি আরও জানান, প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট জন উপস্থিত ছিলেন, যাদের কেউ কেউ কিছুটা বিশৃঙ্খল আচরণ করেন এবং পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ভাষায় কথা বলেন। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে বলে তিনি জানান।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এই ঘটনাকে একটি সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, মোটরসাইকেল আটক নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল, যা পরে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এমন কিছু ঘটে থাকলে সেটিও ভুল হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পুলিশি কার্যালয় ঘেরাও করে চাপ প্রয়োগের এমন ঘটনা মাঝে মধ্যেই সামনে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও যখন রাজনৈতিক প্রভাব বা সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা দেখা যায়, তখন তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন কাজের পরিবেশকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের তড়িৎ ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন তারা।

