দীর্ঘদিন একটি ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠ এখন সরকারের হাতে ফিরে যাচ্ছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এই মাঠটি এখন হস্তান্তরিত হচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে, এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি খুলে দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের জন্য।
আগামীকাল ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই লক্ষ্যে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। একই দিনে ধানমন্ডি ৮ ও ৯ নম্বর সড়কের মাঝামাঝি অবস্থিত আরেকটি মাঠও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তরের জন্য পৃথক একটি স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। আবাহনী মাঠটি স্থানীয়ভাবে ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ নামেও পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি ইজারা পাওয়া সত্ত্বেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ বহু বছর ধরে ইজারার নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করেনি, যার ফলে সরকার মাঠটির নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজের হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে ক্লাবটি প্রায় দশ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেওয়ার আবেদন করে। এর ভিত্তিতে ১৯৯৮ সালে মাঠের বড় অংশ এবং ২০১০ সালে অবশিষ্ট জমি একই মেয়াদে ইজারা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে সাড়ে দশ একরের বেশি জমি এই ইজারার আওতায় ছিল।
ইজারার শর্তে বলা ছিল, মাঠটি শুধু ক্রীড়া কার্যক্রম, অনুশীলন ও খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করা যাবে। মাঠের পাবলিক পার্কের চরিত্র পরিবর্তন করা, বাণিজ্যিক স্থাপনা বা মার্কেট নির্মাণ করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা তোলার ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছিল।
তবে বাস্তবে সময়ের সঙ্গে মাঠের একটি বড় অংশে বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মিত হয়। বর্তমানে সেখানে একটি বড় স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে, যেখানে ক্লাবের কার্যালয়, সুইমিংপুল, জিমনেশিয়ামসহ একাধিক ইনডোর ক্রীড়া সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধানমন্ডি এলাকার এই জায়গাটি ষাটের দশকে ইটভাটা হিসেবে ব্যবহৃত হতো, পরে সেটিকে খেলার মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ১৯৭২ সালে একটি ক্রীড়া সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই মাঠে অনুশীলন ও খেলাধুলার কার্যক্রম চলে আসছিল, যার সূত্রেই এটি ধীরে ধীরে বর্তমান পরিচিতি পায়।
সরকারি নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর মাঠটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও এই মাঠ ব্যবহার করার লক্ষ্য রয়েছে।
শুধু আবাহনী মাঠ নয়, একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজধানীর মিরপুরের আরও দুটি মাঠের ক্ষেত্রেও, যেগুলোও এখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খেলার মাঠকে বিভিন্ন ক্লাব বা সংগঠনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এনে সরকারি তত্ত্বাবধানে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার একটি বৃহত্তর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীতে খেলার মাঠের সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে আধুনিক ফুটসাল মাঠ নির্মাণের সিদ্ধান্তও আগেই নেওয়া হয়েছিল। গত মার্চ মাসে এক সরকারি বিবৃতিতে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যমান খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগও চলছে। সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনায় রাজধানীর ছোট আকারের মাঠ থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ক্রীড়া অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

