২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্য আসন বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে আবেদন করেও কোনো কলেজে আসন পাননি ১৪ হাজার ৪১৫ জন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। তারা বিভিন্ন কলেজে নিজেদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মোট ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫টি আবেদন জমা দেন। প্রথম ধাপের ফল অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ কোনো না কোনো কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭১ জন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। অর্থাৎ মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৪ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির আবেদন করেছেন।
প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ভর্তির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজেদের ফলাফল দেখতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনেও খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানানো হচ্ছে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে। আগে ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে সেদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ক্লাস শুরুর সময় এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। অনলাইনে আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের ২২০ টাকা ফি দিতে হয়েছে।
ভর্তি নিশ্চায়নের সময় বোর্ডকে ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার বা রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কোনো কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি বা ছাড়পত্র ইস্যু করতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি কিংবা এমপিওভুক্তি বাতিল হওয়ার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

