Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, সেপ্টে. 17, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » শিশু সুরক্ষায় ছাড় নয়: আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে কঠোর নিয়ম জরুরি
    বাংলাদেশ

    শিশু সুরক্ষায় ছাড় নয়: আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে কঠোর নিয়ম জরুরি

    নিউজ ডেস্কসেপ্টেম্বর 17, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    সাভারে গত মাসে একটি পরিবার লক্ষ করে, তাদের সাত বছরের ছেলে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পর হঠাৎ করেই চুপচাপ হয়ে গেছে এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ বোধ করছে। কুরআন শিক্ষার জন্য পরিবার তাকে যে প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছিল, সেখানে বিশ্বাসভাজন শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকার কথা ছিল তার।

    কিন্তু বাবার করা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে একাধিকবার শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল শিশুটি। পরিবার বিষয়টি মাদ্রাসা পরিচালকের কাছে জানালে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়। এখানে বড় প্রশ্নটা এই নয় যে মাসের পর মাস কীভাবে এই ঘটনা চলতে পারল—বরং প্রশ্ন হলো, শিশুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানে মৌলিক সুরক্ষা ব্যবস্থাই কেন ছিল না।

    এই কারণেই সাধারণ আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো প্রতিটি আবাসিক মাদ্রাসার জন্যও শিশু সুরক্ষা নিয়ে বাধ্যতামূলক নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। এমন নীতিমালায় থাকতে হবে নির্যাতন প্রতিরোধের ব্যবস্থা, বিপদ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া, গোপনীয়তা রক্ষা করে অভিযোগ জানানোর সুযোগ, স্বাধীন তদন্তের নিশ্চয়তা এবং দায়ীদের জবাবদিহির ব্যবস্থা।

    দুর্ভাগ্যবশত সাভারের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সম্প্রতি মাদ্রাসাগুলোয় এমন নির্যাতনের অভিযোগ এবং অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি নিয়ে বারবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে, বিশেষত যখন সমস্যার আসল ব্যাপ্তি নির্ধারণের কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যমই নেই। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আঠারো বছরের কম বয়সী আটত্রিশজন শিশু শিক্ষকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে এবং বাহান্নজন পুরুষ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আরেকটি মানবাধিকার সংস্থা—হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট এক হাজার আটশ নব্বইটি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচশ আশিটি ধর্ষণের ঘটনা। কিন্তু এই পরিসংখ্যানগুলোর কোনোটিতেই স্পষ্ট নয়, এর মধ্যে কতগুলো আবাসিক মাদ্রাসার ভেতরে ঘটেছে।

    বাংলাদেশে এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ঘটা নির্যাতনের জন্য পৃথক কোনো তথ্যভাণ্ডার না থাকায় সমস্যাটি আসলে কতটা বিস্তৃত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সময়কালে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে রিপোর্ট হওয়া নির্যাতনের ঘটনার ঊনষাট শতাংশই ঘটেছে মাদ্রাসায়—যদিও দেশের মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে মাদ্রাসায় পড়ে মাত্র প্রায় ছয় ভাগের একভাগ। এই অস্বাভাবিক অনুপাতই প্রমাণ করে, এসব প্রতিষ্ঠানের তদারকি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।

    প্রতিটি ঘটনার নিজস্ব প্রেক্ষাপট রয়েছে এবং প্রতিটিকেই আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে একসঙ্গে বিবেচনা করলে এসব ঘটনা একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার দিকেই ইঙ্গিত করে। যে শিশুরা পরিবার থেকে দূরে থেকে কঠোর ও স্তরবিন্যস্ত পরিবেশে সার্বক্ষণিকভাবে বসবাস করে, তারা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকে। খাবার, বাসস্থান, শিক্ষা এমনকি মানসিক সহায়তার জন্যও তারা সম্পূর্ণভাবে ওস্তাদ ও তত্ত্বাবধায়কদের ওপর নির্ভরশীল। এমন প্রবলভাবে অসম ক্ষমতার সম্পর্কে থেকে নির্যাতনের মুখে অনেক শিশুই নিশ্চুপ থেকে যায়। ভীত শিশুটি অনেক সময় জানেই না তার সঙ্গে কী ঘটছে, সেটি কীভাবে প্রকাশ করবে। সাভারের ঘটনায় শিশুটি পরিবারকে নিজে থেকে কিছু জানায়নি—অন্য শিক্ষার্থীরা গোপনে পরিবারকে সতর্ক করার পরই বিষয়টি সামনে আসে, তখন সে ইতিমধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভয় ও গোপনীয়তার সংস্কৃতির কারণে মাদ্রাসার ভেতরে ঘটা শিশু নির্যাতনের ঘটনা সাধারণত প্রকাশ পায় না, যতক্ষণ না আঘাত গুরুতর বা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

    বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মীদের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক যাচাই ব্যবস্থা নেই—না আছে নিয়মিত পূর্ব-ইতিহাস পরীক্ষা, না আছে কোনো সরকারি তালিকা যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়া শিক্ষকদের তথ্য যাচাই করা সম্ভব। ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যৌন নিপীড়ন-বিরোধী অভিযোগ ব্যবস্থা গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল, এবং ২০১১ সালে শারীরিক শাস্তিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল। আলিয়া মাদ্রাসাগুলো সরকারি তদারকির আওতায় থাকলেও, বহু কওমি ও ব্যক্তিমালিকানার আবাসিক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নজরদারির বাইরে পরিচালিত হয়, যা পর্যবেক্ষণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিশু সুরক্ষায় বড় ধরনের ফাঁক তৈরি করে।

    শিশু সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশে আইনি কাঠামোর অভাব নেই। জাতীয় শিশুনীতি ২০১১-এ শারীরিক, মানসিক ও যৌন নিপীড়ন থেকে শিশুদের সুরক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জোরদার তদারকির কথা বলা হয়েছে। শিশু আইন ২০১৩ এবং বাংলাদেশের সংবিধানেও শিশুদের সুরক্ষা ও কল্যাণ সম্পর্কিত আইনি নিশ্চয়তা রয়েছে। সমস্যা তাই আইনের অভাবে নয়, বরং বাস্তবায়নযোগ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিতে। এর ক্ষতি কেবল ফৌজদারি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—নির্যাতন একটি শিশুর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত রেখে যায়, তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত করে এবং বড়দের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার আস্থা নষ্ট করে দেয়। এসব বলার অর্থ মাদ্রাসা শিক্ষার বিরোধিতা নয়। কিন্তু শিশুদের দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে, তাকে অবশ্যই মৌলিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে যাচাই-বাছাইয়ের বাইরে রাখা তার সুনাম রক্ষা করে না, বরং তা নির্যাতন লুকিয়ে রাখার পরিবেশকেই টিকিয়ে রাখে।

    শুধু কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান হবে না। মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদ ও কর্তৃপক্ষকেও তাদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঘটা ঘটনার জবাবদিহি করতে হবে। শিশুদের সঙ্গে কাজ করা প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রথমে অপরাধ রেকর্ড যাচাই, প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও যোগ্যতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচাই-বাছাই করা উচিত, সঙ্গে দিতে হবে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক প্রাথমিক প্রশিক্ষণ। মাদ্রাসাগুলোতে শারীরিক সংস্পর্শ, একক তত্ত্বাবধান, শারীরিক শাস্তি এবং অবমাননাকর আচরণ নিয়ে স্পষ্ট লিখিত নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য প্রতিষ্ঠান-নিরপেক্ষ, গোপনীয় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন স্বাধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা—সরকার-অনুমোদিত অথবা স্বাধীন শিশু সুরক্ষা পরিদর্শকদের ঘোষণা ছাড়াই মাদ্রাসার আবাসিক ভবনে পরিদর্শনের সুযোগ থাকতে হবে, নথি পর্যালোচনা করতে হবে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। সবশেষে, শিশুদের শেখাতে হবে কীভাবে অনিরাপদ আচরণ চিহ্নিত করতে হয়, কীভাবে প্রতিবাদ করতে হয় এবং কীভাবে একজন বিশ্বাসযোগ্য বড়কে চিহ্নিত করতে হয়।

    একটি আবাসিক মাদ্রাসা—বা অন্য যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—শিশুদের জন্য শেখা ও বেড়ে ওঠার একটি নিরাপদ জায়গা হওয়া উচিত। এটি কখনোই এমন জায়গা হয়ে উঠতে পারে না, যেখানে সহিংসতা একটি শিশুর নিরাপত্তার অনুভূতি কেড়ে নেয় বা তাকে তার প্রাপ্য জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এই লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে—প্রতিটি আবাসিক মাদ্রাসার জন্য বাধ্যতামূলক ও বাস্তবায়নযোগ্য সুরক্ষা নীতিমালা, এসব নীতিমালার স্বাধীন তদারকি এবং তা মেনে চলাকে আপসহীনভাবে নিশ্চিত করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত ছাদে বসছে সৌর প্যানেল

    সেপ্টেম্বর 17, 2026
    অর্থনীতি

    বন্ধ থাকা চার পাটকল চালু, ১৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান

    সেপ্টেম্বর 17, 2026
    বাংলাদেশ

    অডিও কাণ্ডে বিতর্কিত ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসিকে সরিয়ে দিলো ডিএমপি

    সেপ্টেম্বর 17, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.