সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ডিংয়ের জেরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে, যখন একটি অডিও রেকর্ডিং অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। রেকর্ডিংয়ে শোনা যাওয়া কণ্ঠস্বরটি নিজেকে থানার ওসি বলে পরিচয় দিয়ে সরকার, প্রশাসনযন্ত্র এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বিভাগ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন।
অডিওতে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট সক্ষম নন এবং সাবেক সরকারপ্রধান আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে পুলিশ বাহিনী কার্যত কিছুই করতে পারবে না। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক মনোভাব পোষণ করছেন, যা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেখা যায় না।
আলোচিত অডিওতে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। বক্তার দাবি অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে পুলিশে পদায়ন করানোর একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেকর্ডিংয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট বা রেকর্ডিংয়ের সত্যতা সম্পর্কে তার নিজস্ব ব্যাখ্যা এখনো জানা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এমন প্রকাশ্য মন্তব্য বাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রশ্নে জনমনে নতুন করে সংশয় তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ঘুষের মাধ্যমে পদায়নের অভিযোগও যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তা পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

