বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। তাঁর ভাষ্য, এই লড়াই ১৮ কোটি মানুষের জন্য এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিরতি নেই।আজ শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস সড়কে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। ৮ দফা দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে এই সভা হয়।
শফিকুর রহমান জানান, প্রথম দফার লংমার্চ ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদিঘি পর্যন্ত গিয়েছিল। তাঁর দাবি, পথে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ একাত্মতা জানিয়েছিল। এরপর থেকেই সরকারের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর প্রশ্ন, বিরোধী দল কেন আবার লংমার্চ করছে, এমন কথা বলে সরকার কি জনগণকে অপমান করছে না?
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায়কে কেন সম্মান করা হলো না। তাঁর ভাষায়, ১ হাজার ৪০০ মানুষের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে যাঁরা ক্ষমতায় বসেছেন, তাঁরা কেন সেই আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, অনির্বাচিত কাউকে দেশ শাসন করতে দেওয়া হবে না, এমন কথা দিয়েও বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রক্ষা হয়নি। মানুষ বিভিন্ন “কার্ড” চায়নি, যা চেয়েছিল তা দিতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।
বক্তৃতায় তিনি ব্যঙ্গ করে জানতে চান, টাঙ্গাইলে কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে এবং চুলায় কি গ্যাস জ্বলে? তাঁর দাবি, যেসব এলাকায় গ্যাসের পাইপলাইন নেই, সেখানে তরলীকৃত গ্যাস কিনতে হয়, আর ৭০০ টাকার সেই সিলিন্ডারের দাম এখন ২ হাজার ২০০ টাকা। একইভাবে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, টাঙ্গাইলে নিশ্চয়ই চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নেই এবং মানুষের জীবন ও সম্মান নিয়ে টানাটানিও হয় না। এসব যদি চলতেই থাকে, তবে পরিবর্তন আনতে হবে বলে তিনি মত দেন।
আগে জোটের ছয় দফা থাকলেও এখন তা আট দফায় দাঁড়িয়েছে। শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রয়োজনে দফা আরও বাড়তে পারে, আবার সব দফা বাদ দিয়ে এক দফাও ঘোষণা করা হতে পারে।
তিনি বলেন, আজকের লংমার্চ জনগণের কাছে এসেছে, আগামী লংমার্চ হবে এখান থেকে ঢাকার দিকে। তিনি সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলেন। কাঠফাটা রোদে মা-বোনদের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা যখন নেমেছেন, দাবি তখন আদায় হবেই।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সকালে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়। এরপর গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস সড়কে পথসভা হয়। টাঙ্গাইলের পর কর্মসূচি অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের হাটিকমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভা হওয়ার কথা। সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে।
বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, জোট জ্বালানি সংকটের মতো জনদুর্ভোগের ইস্যুকে রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, “ঢাকামুখী লংমার্চ”-এর ঘোষণা কর্মসূচিকে আরও কঠোর ধাপে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যদিও এর সময় বা রূপরেখা জানানো হয়নি। তৃতীয়ত, আগের দিনগুলোর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারপক্ষ এসব কর্মসূচিকে বড় চ্যালেঞ্জ মানছে না এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শফিকুর রহমানের এসব অভিযোগ ও দাবি রাজনৈতিক বক্তব্য, সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

