সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় থাকা সব সুবিধাভোগীকে টাকা-পে ডেবিট কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তুলতে এবং দোকানে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
শুধু কার্ডের মাধ্যমে নয়, মোবাইল আর্থিক সেবা ও কাছাকাছি থাকা যন্ত্রের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সুবিধাভোগীদের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২৬ জুলাই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারা দেশে বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তৈরি সভার কার্যপত্রেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক সুবিধাভোগীর পক্ষে সব সময় যে ব্যাংকে তাদের হিসাব রয়েছে, সেই ব্যাংকের শাখায় যাওয়া সম্ভব হয় না। আবার দেশের সব জায়গায় সব ব্যাংকের শাখাও নেই। তাই কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে, তা বিবেচনায় না রেখে যেন প্রয়োজনের সময় সুবিধাভোগীরা টাকা তুলতে পারেন, সে জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টাকা-পে হলো বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় ডেবিট কার্ড ব্যবস্থা। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৯টি ব্যাংক এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক টাকা-পে কার্ড ব্যবহার করছেন। আরও কয়েকটি ব্যাংক এই ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, টাকা-পে লেনদেনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে কোনো ফি নেয় না। ব্যাংকগুলোও কার্ড দেওয়ার জন্য তুলনামূলক কম ফি নেয়। ফলে ভিসা বা মাস্টারকার্ডের তুলনায় গ্রাহকদের জন্য এই ব্যবস্থায় খরচ কম হতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় যেসব সুবিধাভোগীর আগে কোনো ব্যাংক হিসাব নেই, তাদের সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে হিসাব খোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর যাদের বেসরকারি ব্যাংকে আগে থেকেই হিসাব রয়েছে, সেই ব্যাংক টাকা-পে ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তারা নিজেদের হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন।
ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এই কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গত ১০ মার্চ ঢাকার কড়াইল বস্তির পাশের টিঅ্যান্ডটি মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন।
বর্তমানে দেশের ৫২ জেলার ৫৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। এসব এলাকায় ৭০ হাজার ৮৬১ জন সুবিধাভোগীকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।
সারা দেশে সুবিধাভোগী নির্বাচনের কাজও চলছে। পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত স্কোরের মাধ্যমে কারা এই সুবিধা পাবেন, তা বাছাই করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ এবং ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৪১ লাখ মানুষকে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য ব্যবহার করে সুবিধাভোগীদের স্কোর নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে পুরোনো তথ্য ব্যবহারের কারণে কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী বাছাইয়ে ভুল হওয়ার বিষয়টি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় টাকা-পে ডেবিট কার্ড যুক্ত হলে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক শাখার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ভাতা তোলা ও খরচ করা সহজ হবে।

